একটি পডকাস্টে অংশ নিয়ে গেটস জানান, টেলিফোন বিপণন, গ্রাহক সেবা ও হিসাববিজ্ঞানের মতো দাপ্তরিক কাজগুলো এআই ব্যবস্থার দখলে চলে যেতে পারে। মানুষের চেয়ে অনেক কম খরচে, দ্রুত ও নির্ভুলভাবে এসব কাজ করতে সক্ষম প্রযুক্তিটি। শুধু অফিসের কাজই নয়, শারীরিক শ্রমনির্ভর পেশাতেও মানুষের জায়গা দখল করতে পারে হিউম্যানয়েড রোবট। রোবটের বিকাশ ব্যাপকভাবে ধীর বা বন্ধ না হলে বাড়ি নির্মাণ, খাদ্য উৎপাদন এমনকি চিকিৎসা ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মতো কাজও যন্ত্র দিয়ে সম্পন্ন হবে। এর ফলে অধিকাংশ পণ্য ও সেবা উৎপাদনে মানুষের কায়িক শ্রম হয়তো অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়বে।
কেবল অর্থ উপার্জনের মাধ্যম নয়, বরং কাজ মানুষের জীবনে বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য, সহকর্মীদের সঙ্গে সামাজিক বন্ধন ও আত্মতুষ্টি এনে দেয় বলে উল্লেখ করেন বিল গেটস। তিনি জানান, প্রযুক্তির কারণে মানুষ হঠাৎ কাজ হারালে সমাজে এক গভীর মানসিক ও সামাজিক সংকট তৈরি হবে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সপ্তাহে কর্মদিবস কমানো কিংবা সময়ের আগেই অবসরে যাওয়ার সুযোগ তৈরির মতো পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। এছাড়া খেলাধুলা, শিল্পকলা, রান্না ও শিশু পরিচর্যার মতো ক্ষেত্রগুলোকে মানুষের কাজের জন্য বিশেষভাবে সংরক্ষিত রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। মানুষের পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৃজনশীলতা টিকিয়ে রাখতে কিছু কিছু কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পুরোপুরি এড়িয়ে চলার পরামর্শও দেন তিনি। আমাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং জেপিমরগান প্রধান জেমি ডিমনও সপ্তাহে কাজের দিন কমানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে কর্মসংস্থানের রূপান্তর নিয়ে প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের মধ্যেও আলোচনা তুঙ্গে। টেসলা ও স্পেসএক্সের প্রধান ইলন মাস্কের মতে, এই রূপান্তর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং কাজ হারিয়ে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের জন্য সার্বজনীন সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করতে হতে পারে। অ্যানথ্রপিকের প্রধান নির্বাহী দারিও আমোদেই বড় ধরনের স্বল্পমেয়াদি ধাক্কার হুঁশিয়ারি দিলেও ওপেনএআই প্রধান স্যাম অল্টম্যান মনে করেন, এআই বাস্তবে ততটা দ্রুত মানুষের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে না। তবে আমাজন ও মেটার মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরনের ছাঁটাই চলায় সাধারণ কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে।





