প্রতিরক্ষা চুক্তির পর নাইজারে সেনা পাঠাচ্ছে আলজেরিয়া, পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে অনুমোদন

আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেবুন
আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেবুন | ছবি: আল জাজিরা
0

প্রতিবেশী দেশ নাইজারে সেনা মোতায়েনের একটি প্রস্তাবে সর্বসম্মত অনুমোদন দিয়েছে আলজেরিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ। দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি সই হওয়া একটি প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হল। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষেও প্রস্তাবটি পাস হলে ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর এটিই হবে আলজেরিয়ার প্রথম বিদেশি সামরিক মিশন।

আলজেরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট বিদেশে সামরিক বাহিনী মোতায়েন করতে পারেন, তবে তার জন্য পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার অনুমোদন প্রয়োজন। আলজেরীয় সংবাদপত্র আল-খবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, উচ্চকক্ষ কাউন্সিল অব দ্য নেশনের জরুরি অধিবেশনে সেনা মোতায়েনের প্রস্তাবটি পাস হয়। এ বিষয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য রোববার রাতেই নিম্নকক্ষ পিপলস ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির বিশেষ অধিবেশন বসার কথা রয়েছে।

নাইজারে মোতায়েন হতে যাওয়া আলজেরীয় সেনাদলকে মূলত দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তার দায়িত্ব দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। গত সপ্তাহে নাইজারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সালিফু মোদি আলজেরিয়া সফর করেন। ওই সফরে তিনি আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেবুন এবং সেনাপ্রধান জেনারেল সাইদ শানেগরিহার সঙ্গে বৈঠক করেন। সে সময়ই দুই দেশের মধ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় সামরিক সহযোগিতা চুক্তি সই হয়, যার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে প্রেসিডেন্ট আবদেলমাজিদ তেবুন নিশ্চিত করেছিলেন যে গত আগস্টের শেষের দিকে নাইজারের রাজধানী নিয়ামেতে একটি অভ্যুত্থানচেষ্টা ব্যর্থ করতে যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল আলজেরিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, নিয়ামে সরকারের অনুরোধেই তারা রাজধানীতে মাঝআকাশে জ্বালানি ভরার একটি উড়োজাহাজসহ চারটি সুখোই সু-৩০ যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছিল। নাইজারের অস্থিতিশীলতা ঠেকাতে সে সময় দেশটির সেনাবাহিনীকে সরাসরি সহায়তা দিয়েছিল আলজেরীয় বিমানবাহিনী। বেশ কিছুদিন টানাপোড়েন চলার পর সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজনীতি, কূটনীতি, সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে আলজেরিয়া ও নাইজারের সম্পর্ক বেশ ঘনিষ্ঠ রূপ নিয়েছে।

এএম