ইয়েমেন সংঘাত: দাম্মামের শিল্পাঞ্চলে হামলা, বড় অগ্নিকাণ্ডের দাবি

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় দাম্মামের একটি শিল্প কমপ্লেক্সে হামলার পর আগুন জ্বলছে
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় দাম্মামের একটি শিল্প কমপ্লেক্সে হামলার পর আগুন জ্বলছে | ছবি: সংগৃহীত
0

সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় দাম্মাম শহরের একটি শিল্পাঞ্চলে রোববার হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে ইরনা জানায়, পূর্বাঞ্চলীয় দাম্মামের ওই শিল্পাঞ্চলে ইয়েমেন থেকে হামলা চালানো হয়। এর পরই সেখানকার স্থাপনাটিতে বড় ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দেয়া সৌদি আরবের সঙ্গে ইরান-সমর্থিত হুথিদের সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে তীব্র আকার নিয়েছে। গত গ্রীষ্মে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে দুই পক্ষই প্রায় প্রতিদিন পরস্পরের ওপর হামলা চালাচ্ছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার হুথিরা জানায়, পশ্চিম ইয়েমেনের আবাসিক এলাকায় সৌদির হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। গোষ্ঠীটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মাকবানা জেলার আল-বারাহ এলাকায় দুটি পরিবারের বসতবাড়ি লক্ষ্য করে ওই হামলা চালানো হয়। তবে নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। হুথিদের দাবি অনুযায়ী, এর আগের দিন বুধবার একটি পেট্রোল পাম্প ও বাজারে সৌদি হামলায় অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারান। পাল্টা জবাবে ইয়েমেন সরকারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এডেন বিমানবন্দরে হুথিরা হামলা চালালে বেসামরিক লোকজন আহত হন।

ইয়েমেনের আকাশসীমায় সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রণ উপেক্ষা করে গত জুলাইয়ে সানায় একটি ইরানি বিমান অবতরণের অনুমতি দেয় হুথিরা। এরপর ২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যায়। এর জের ধরে সৌদির ভূখণ্ড, জাহাজ ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করে বিদ্রোহীরা। তারা রিয়াদ বিমানবন্দর লক্ষ্য করেও আক্রমণ চালিয়েছে, যার কারণে দুই সপ্তাহ বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখতে হয় এবং বড় ধরনের নানা আয়োজন বাতিল করতে বাধ্য হয় রিয়াদ। এতে সৌদি আরবের অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণ পরিকল্পনা ধাক্কা খায়।

২০১৪ সালে সানার নিয়ন্ত্রণ হুথিরা নেয়ার পর থেকেই ইয়েমেনে যুদ্ধ চলছে। পরের বছর সরকার রক্ষায় সেখানে হস্তক্ষেপ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জাতিসংঘের হিসাবে, সংঘাত নতুন করে শুরুর পর এ পর্যন্ত ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এদিকে হুথিদের আংশিক নিয়ন্ত্রণে থাকা দুটি প্রদেশের জন্য নতুন গভর্নর নিয়োগ দিয়েছে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল। রোববার দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় আল-বায়দা ও উত্তরাঞ্চলীয় আল-জাউফ প্রদেশের জন্য এ নিয়োগসংক্রান্ত দুটি ডিক্রি জারি করা হয়।

সরকারি বার্তা সংস্থা সাবার বরাতে জানা যায়, মেজর জেনারেল হুসেইন আল-আজ্জি আলী আল-আওয়াদিকে আল-বায়দার গভর্নর করা হয়েছে। আর মেজর জেনারেল আমিন আলী আল-আকিমিকে আল-জাউফের গভর্নর ও সেখানকার সামরিক অঞ্চলের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আল-আওয়াদি সাবেক গভর্নর নাসের আল-সাওয়াদির স্থলাভিষিক্ত হলেন। অন্যদিকে আল-আওয়াদি আগে আল-জাউফের দায়িত্বে ছিলেন, এখন তার পদে এলেন আল-আকিমি।

কৌশলগত অবস্থানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে লড়াই চলায় প্রদেশ দুটিতে জটিল সামরিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আল-বায়দার বেশির ভাগ এলাকা হুথিদের দখলে থাকলেও আল-জাউফের নিয়ন্ত্রণ দুই পক্ষের মধ্যে বিভক্ত। মধ্যভাগে অবস্থিত আল-বায়দার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণের আটটি প্রদেশের সীমান্ত থাকায় এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে আল-জাউফের সঙ্গে সৌদি আরবের স্থলসীমান্ত রয়েছে এবং এটি হুথি নিয়ন্ত্রিত সাদা, আমরান ও সানার কাছে অবস্থিত। পাশাপাশি সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা মারিব ও হাধরামাউতও এর সীমান্তবর্তী।

রাজধানী সানাসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো হুথিদের দখল থেকে পুনরুদ্ধারে গত ৫ অক্টোবর ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান শুরু করে সরকারি বাহিনী। জাতিসংঘ জানায়, জুলাই থেকে শুরু হওয়া নতুন সামরিক সংঘাতে হাজার হাজার মানুষ হতাহত এবং আড়াই লাখের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়েছেন। এতে ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে চলা আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতির অবসান ঘটে মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।

এএম