হাজারো মানুষের বিক্ষোভে উত্তাল উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়া। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই রাজধানী তিউনিসে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট কাইস সায়েদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছেন তারা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ-জনগণের বাক স্বাধীনতা নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে সরকার। জ্বালানি ও চরম অর্থনৈতিক সংকটের পরও সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারছে না সাধারণ জনগণ। মুখ খুললেই প্রহসনের রাজনীতি করছেন ক্ষমতাসীনরা। অন্যায়ভাবে জেলে আটকে রাখছে বিক্ষোভকারীদের। তাই আন্দোলনকারীদের স্লোগান-পিপল আর হাংড়ি অ্যান্ড প্রিজন আর ফুল। অর্থাৎ মানুষের পেটে ভাত নেই, সরকারের জেলে জায়গা নেই।
আন্দোলনে আসা একজন বলেন, ‘তিউনিসিয়ার মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার খর্ব করেছে সরকার। মানুষের ঘরে খাবার নেই। বিষয়টি বললেই জেলে পাঠানো হচ্ছে।’
আরও পড়ুন
তিউনিসিয়ার মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার খর্ব করেছে সরকার। মানুষের ঘরে খাবার নেই। বিষয়টি বললেই জোরপূর্বক জেলে পাঠানো হচ্ছে।
সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কোন কিছুই ভালো নেই। দিন দিন পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। স্বাধীনভাবে প্রতিবাদের ভাষাও সরকার কেড়ে নিয়েছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। নেই সভা-সমাবেশ করার স্বাধীনতা।
১ কোটি ২০ লাখ মানুষের দেশ তিউনিশিয়া। চলমান অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের। আর তার এ ব্যর্থতা ঢাকতে বিচারবিভাগ ও প্রশাসনকে কাজে লাগাচ্ছে। যারাই প্রেসারগ্রুপের কাজ করছে তাদের নেয়া হচ্ছে বন্দিশালায়। সংবাদমাধ্যমকেও স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেয়া হচ্ছে না। অনেক সাংবাদিককেও মামলা দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে জেলে।
২০২২ সালে কাইস সায়েদ তিউনিসিয়ার পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে ডিক্রি জারির মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে রয়েছে। যার জন্য ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। যদিও সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে প্রেসিডেন্ট জানান, দেশের প্রয়োজনেই তার এ পদক্ষেপ।
৯৯ শতাংশ মুসলিমের দেশ তিউনিসিয়ার অর্থনীতি নির্ভর করে পর্যটন ও কৃষিকাজের ওপর। জলপাই, খেজুর রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশটি। সাহারা মরুভূমির কারণে বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের কাছে আগ্রহের দেশ তিউনিসিয়া।





