২০১২ সালে কলকাতায় পা রেখেছিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টন। এক-দুদিন নয়; টানা চার দিনের সফরে ভারতে অবস্থান করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। স্ত্রী জ্যানেট ডুসডিবেস রুবিওকে সঙ্গে নিয়ে শনিবার ভোর ৭টার দিকে কলকাতার দমদম বিমানবন্দরে পা রাখেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ১৪ বছর পর এই প্রথম কোনো মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে পা রাখেন।
কিন্তু রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অভ্যর্থনা জানাতে দেখা যায়নি। পরে বিমানবন্দর থেকে সরাসরি মাদার তেরেসা হাউজ, চিলড্রেন্স হোম এবং ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল পরিদর্শনে যান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। কলকাতায় প্রায় চার ঘণ্টার ঝটিকা সফর শেষে উড়াল দেন দিল্লির উদ্দেশে।
আরও পড়ুন:
দিল্লিতে পা রাখার পরও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বা সরকারের হাই প্রোফাইল কেউ মার্কো রুবিকে স্বাগত জানাননি। তবে রুবিও এমন এক সময় ভারত সফরে গেলেন; যখন দিল্লির চির শত্রু পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতার চেষ্টা চলছে। এমনকি দিল্লির আরেক প্রতিদ্বন্দ্বি দেশ চীনে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সফরের পর; হঠাৎ রুবিওর দিল্লি সফর ঘিরে রহস্যের জন্ম দিয়েছে। চলছে নানান জল্পনা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দিল্লির চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইসলামাবাদ ও বেইজিংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এছাড়া ট্রাম্পের বিতর্কিত বাণিজ্য শুল্কনীতিতে আগেই নাখোশ মোদি প্রশাসন। এছাড়া ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নানা বিধিনিষেধে চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ভারত।
এ অবস্থায় দিল্লির সঙ্গে ওয়াশিংটনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশীদারিত্বকে পুনরায় শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই রুবিও এই সফরে এসেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। তাই ভারতে থাকা মার্কিন দূতাবাসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার ফাঁকে করবেন একাধিক বৈঠক।
আজই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে। আর রোববার, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা এবং জ্বালানি ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারে গুরুত্ব দেয়া হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এছাড়া চার দিনের সফরে আগ্রা ও জয়পুরেও ভ্রমণ করবেন রুবিও।





