খান পরিবার ও তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সোমবার ভোরে নিশ্চিত করেছে যে, রোববার আলিমার গ্রেপ্তারের বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করার পরপরই উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিসহ পরিবারের আরও বেশ কয়েকজন সদস্যকে হেফাজতে নেয়া হয়।
পিটিআইয়ের মুখপাত্র শেখ ওয়াকাস আকরাম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘পঞ্জাব পুলিশ ইমরান খানের দুই বোনের পাশাপাশি তাদের সন্তান এবং আলিমা খানের ছেলেদেরও গ্রেপ্তার করেছে।’ তিনি আরও জানান, তাদের একটি সাঁজোয়া যানে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ইমরান খানের ছেলে কাশিম এ আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যাখ্যা বা গ্রেপ্তারের কারণ দর্শানো ছাড়াই তাদের স্বজনদের বাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে এবং গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। রোববার এক্স-এ তিনি লেখেন, এটি একটি অপরাধমূলক আচরণ। ক্ষমা অযোগ্য।
খানকে কারামুক্ত করার দাবিতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পিটিআইয়ের একটি পরিকল্পিত প্রতিবাদ মার্চের এক সপ্তাহ আগে এসব আটকের ঘটনা ঘটলো।
লাহোরের ডেপুটি কমিশনার জননিরাপত্তার স্বার্থে কর্তৃপক্ষকে ৩০ দিন পর্যন্ত যেকোনো ব্যক্তিকে আটকে রাখার সুযোগ দেওয়া এমপিও আইনের অধীনে প্রতিরোধমূলক আটকের নির্দেশ জারি করে। এরপরই রোববার আলিমা খানকে হেফাজতে নেয়া হয়। অন্য বোনেদেরও একই আইনের অধীনে আটক করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
আলিমা খানের আইনজীবী রানা মুদাসসর উমর জানিয়েছেন, এ আটকের সিদ্ধান্তকে লাহোর হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি পিটিআইকে তাদের পরিকল্পিত মার্চ বা পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
নাকভি বলেন, ‘এ ধরনের নাটক করে তারা কিছুই অর্জন করতে পারবে না। আমি আজও আবার বলব, এখনও সময় আছে। এমন পরিস্থিতিতে জড়াবেন না যেখান থেকে ফিরে আসার আর কোনো উপায় থাকবে না।’
রাজনৈতিক দলগুলোর সাধারণ রাস্তা দখলের কোনো অধিকার নেই—গত সপ্তাহের আদালতের এমন একটি আদেশের কথা উল্লেখ করে তিনি পিটিআইকে ভিন্ন পথ অবলম্বনের আহ্বান জানান।
এদিকে পিটিআই নেতারা এসব গ্রেপ্তারের তীব্র নিন্দা করেছেন। আকরাম বলেন, ‘আলিমা খানকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, কারণ তিনি তার ভাইয়ের বেআইনি আটক, নির্জন কারাবাস এবং চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার বিষয়ে চুপ থাকতে অস্বীকার করেছিলেন।’





