ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন: ঠান্ডা পানিতে ডুবতে নদীর তীরে পর্যটক-স্থানীয়রা

নদীর তীরে পর্যটক-স্থানীয়রা
নদীর তীরে পর্যটক-স্থানীয়রা | ছবি: সংগৃহীত
0

তীব্র শীতে যখন কাঁপছে ইউরোপ, তখন ভিন্ন আঙ্গিকে ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন করতে বরফ ঠান্ডা পানিতে ডুব দিয়েছেন ইতালির একদল সাঁতারু। ৮০ বছরের পুরনো অথচ ব্যতিক্রমী এ আয়োজনের সাক্ষী হতে রাজধানী রোমের টাইবার নদীর তীরে জড়ো হয়েছেন পর্যটক ও স্থানীয়রা। হাড়-কাঁপানো শীতে রীতি অনুযায়ী বার্ষিক সাঁতার অনুষ্ঠিত হয়েছে স্পেন ও স্লোভেনিয়াতে।

শীতে জুবুথুবু ইউরোপবাসী। বাইরে বের হলেই যেখানে হাঁড়েহাঁড়ে ঠোকাঠুকি লাগার অবস্থা, সেখানে বরফ ঠান্ডা পানিতে ঝাঁপ দিচ্ছেন ইতালির সাঁতারু ও ডুবুরিরা। ডেয়ার ডেভিল ডাইভারদের এই কীর্তি দেখতে রোমের টাইবার নদীর তীরে জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। উৎসাহের কমতি নেই পর্যটকদেরও।

১৯৪৫ সালের ১ জানুয়ারি ইতালি ও বেলজিয়ামের দ্বৈত নাগরিক দ্য সো-নে নিজের জন্মদিন আর ইংরেজি বছরের প্রথম দিন উপলক্ষে হ্যাট আর সুইমিং গাউন পড়ে নামেন টাইবার নদীতে। ডুব দিয়ে উঠে অঙ্গভঙ্গির সাহায্যে বোঝান, তিনি ঠিক আছেন, ইটস ওকে। ১৯৪৬ সাল থেকে মিস্টার ওকে খ্যাত ওই ব্যক্তির সম্মানার্থে এ রীতি পালন করে আসছেন ইতালিয়ানরা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

ক্যাভোর সেতুর ওপর থেকে টাইবার নদীর বরফ ঠান্ডা পানিতে ঝাঁপ দিয়ে ইংরেজি নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছেন ইতালির ৩ ডুবুরিসহ মোট ৬ জন স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের দুঃসাহসের কাছে হার মেনেছে হাঁড়কাপানো শীতও। দর্শকদের উচ্ছ্বাস আর উন্মাদনা উষ্ণতা জুগিয়েছে তাদের।

আরও পড়ুন:

এদিকে বর্ষবরণের রীতি অনুযায়ী ভূমধ্যসাগরের ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পানিতে নেমে সাঁতার কেটেছেন স্পেনের শত শত মানুষ। বছরের প্রথম দিন সান্তা ক্লজের টুপি, বাহারি রোদচশমা পড়ে বার্সেলোনার সৈকতে ভিড় করেন তারা। বিচে কিছুক্ষণ ছুটোছুটি করে নেমে পড়েন শীতল পানিতে।

তাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘চিন্তা ভাবনা বাদ দিয়ে ঝাঁপ দিন। কারণ পানি অনেক ঠান্ডা।’

অন্য একজন বলেন, ‘এর আগেও এসেছি। খুব ভালো লাগে এ আয়োজন।’

অন্যদিকে নতুন বছরের প্রথম দিনে শীতকে কাঁবু করে পানিতে নামার রীতি আছে আল্পস পর্বতমালার দেশ স্লোভেনিয়াতেও।

তাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘সবাইকে জানাতে চাই, নতুন বছর ২০২৬ এসে গেছে। এর চেয়ে ভালো আর কি হতে পারে!’

গেল ২০ বছর ধরে বছরের প্রথম দিন বার্ষিক সাঁতার আয়োজন করে আসছেন স্লোভেনিয়ানরা। এদিন স্লোভেনিয়া ছাড়াও উপকূলীয় শহর পোর্তোরোজে জড়ো হন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রিটেন, স্লোভাকিয়া এবং অস্ট্রিয়াসহ বিভিন্ন দেশের মোট ২০৩ জন অংশগ্রহণকারী । এরপর তীব্র উচ্ছ্বাস নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পানিতে।

এসএস