ইউরোপের অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ আয়ারল্যান্ড। কিন্তু চাকচিক্যের আড়ালে এখন দীর্ঘশ্বাস হয়ে দাঁড়িয়েছে আবাসন সমস্যা। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকেই দেশটিতে খোলা বাজারে গড় ভাড়া ২ হাজার ইউরোতে পৌঁছেছে, যা ২০১১ সালের তুলনায় প্রায় তিনগুণ। আর এ উচ্চ মূল্যের বাজারে রীতিমতো টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে কম আয়ের প্রবাসীদের। অন্যদিকে, গৃহহীনদের সংখ্যাও রেকর্ড ছাড়িয়েছে।
২০২৫ সালে ভাড়া ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। যেখানে ২০২৪ সালে ভাড়া বৃদ্ধির হার ছিলো ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ২০১৫ সালে গড় ভাড়া যেখানে ছিলো ৭৫০ ইউরো, ২০২৬ সালে এসে তা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ইউরোতে। গত এক দশকে বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধির হার ১৭৪ শতাংশ। ডাবলিনে ভাড়া কোভিডের আগের সময়ের তুলনায় ৫৫ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে বাসা ভাড়া বেড়েছে গ্যালওয়েতে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ, কর্কে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, ওয়াটারফোর্ডে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ এবং লিমেরিকে ৫ শতাংশ।
আরও পড়ুন:
সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে, ডাবলিনের ৪৮ শতাংশ অভিবাসী তাদের আয়ের অন্তত ৫০ শতাংশ খরচ করেন শুধু ভাড়াতেই। অনেকেই বাধ্য হয়ে শহর থেকে অনেক দূরে থাকছেন, যার ফলে যাতায়াতে তাদের দীর্ঘ সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে। আবার আবাসন সংকটের কারণে অনেক প্রবাসী আয়ারল্যান্ড ছেড়ে চলে যাচ্ছে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে স্বেচ্ছায় আয়ারল্যান্ড ছেড়ে যাওয়া অভিবাসীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ বেড়েছে। অনেক বাংলাদেশি এখন কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঝুঁকছেন।
গত এক দশকে পর্যাপ্ত বাড়ি নির্মাণ না করায় সরবরাহের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশি। এ সরবরাহ সংকটের কারণে ভাড়ার বাজারে এক অদৃশ্য যুদ্ধ চলছে, যেখানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রবাসীরা।
তবে আশার কথা, আয়ারল্যান্ড সরকারের সামাজিক ও সাশ্রয়ী আবাসনের জন্যই প্রায় ২০ বিলিয়ন ইউরো ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। বর্তমান লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে আবাসন সরবরাহকে এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যেখানে প্রতিবছর অন্তত ৬০,০০০ নতুন বাড়ি বাজারে আসবে, যা দেশটির ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও আবাসন চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে।





