অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘যারা বলে, সেউতায় ঢুকতে পারলে ফেরত পাঠিয়ে দেয়া হবে, তাদের কথা কখনো বিশ্বাস করবেন না। আপনাকে ফেরত পাঠানো হবে না। যারা সমুদ্রে থাকে, তাদের ফেরত পাঠানো হয় না।’
সেউতায় যেতে এ ধরনের বেশ কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ধারণা করা হচ্ছে, ভাইরাল এই ভিডিওগুলো দেখে হাজার হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সাঁতরে স্পেনের সেউতায় যেতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ওই ঢলে ৮০ জনেরও বেশি মানুষ ডুবে বা পদদলিত হয়ে মারা গেছেন।
এদিকে সীমান্ত পারাপারের পর নিখোঁজ অভিবাসীদের খোঁজে অপেক্ষায় আছেন স্বজনরা।
স্বজনদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমি হাইথামের মা, ওর বয়স ২৩ বছর। হাইথাম গেলো বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১০টায় বেরিয়ে গেছে। তারপর থেকে ওর সাথে আমার আর যোগাযোগ হয়নি।’
অন্য একজন বলেন, ‘আমি জানি না আমার ছেলে মোহাম্মদ কোথায় আছে। সে কি সিউটাতে ঢুকে মারা গেছে?’
আরও পড়ুন:
এদিকে স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় অভিবাসন সংকটের পর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে ইউরেপীয় ইউনিয়ন। মঙ্গলবার অনানুষ্ঠানিক এক ভিডিও কনফারেন্সে এ বিষয়ে একমত হন জোটের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এসময় তারা সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদারের পাশাপাশি নথিবিহীন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করা এবং স্পেনকে অতিরিক্ত সহায়তা দেয়ার পরিকল্পনাও তুলে ধরেন তারা।
ইইউ’র অভ্যন্তরীণ বিষয়ক ও অভিবাসন কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেন, ‘স্পেনকে আর্থিকভাবে এবং কার্যনির্বাহীভাবে সহায়তা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এগুলো হলো সেউতার সঙ্গে সীমান্তে সুরক্ষা জোরদার করতে জরুরি আর্থিক ও প্রত্যাবর্তনে সহায়তা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা।’
এদিকে সেউতায় অবৈধভাবে প্রবেশ করা প্রায় ৭২ হাজার অভিবাসীর মধ্যে ৭০ হাজারই মরক্কোতে ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরিস্থিতি এখন অনেকটাই স্বাভাবিক বলেও দাবি করেন তিনি।
স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্র্যান্ড-মারলাস্কা বলেন, ‘৩০ জুলাইয়ের ঘটনায় শেনজেন এলাকাগুলো কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি। এমনকি ২০২১ সালে যা ঘটেছিল তেমন কিছুও হয়নি।’
মূলত নতুন জীবন গড়ার আশায় থাকা অভিবাসীরা দীর্ঘদিন ধরেই সেউতা হয়ে ইউরোপ ঢোকার চেষ্টা করে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে আদালতের এক রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয় সমুদ্র বা স্থলপথে যারা সেউতায় পৌঁছাবে; তাদের আর ফেরত পাঠানো যাবে না। আর সেই ভাগ্য পরীক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়ে হাজার হাজার মানুষ।




