সংঘাত বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার পর এবার নিষেধাজ্ঞা কবলিত ইরানের অর্থনীতি সচল করতেও এগিয়ে এসেছে পাকিস্তান। নির্বাহী আদেশ জারি করে ইরানগামী পণ্যের জন্য ছয়টি স্থল ট্রানজিট রুট খুলে দিয়েছে শেহবাজ শরীফ প্রশাসন। ২৫ এপ্রিল পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত আদেশে অনুমোদন দেয়।
আল জাজিরার তথ্য, ইসলামাবাদ সফরকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, পাকিস্তানের সেনা প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে স্থল করিডোর নিয়ে আলোচনা করেন এবং তারপরই এমন সিদ্ধান্ত জানায় শেফবাজ শরীফ সরকার। আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণে এ উদ্যোগ নিয়ে আশাবাদী পাক বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খান। তবে এ নিয়ে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি তেহরান।
আরও পড়ুন
যদিও, এ ৬টি রুট দিয়ে ভারতীয় পণ্য বোঝাই কোনো যানবাহন ইরান যেতে পারবে না। গত বছরের মে মাসে যুদ্ধে জড়ানোর পর নিজস্ব ভূখণ্ডে ভারতীয় পণ্য পরিবহণ নিষিদ্ধ করে পাকিস্তান।
মার্কিন অবরোধের জেরে ইরানগামী ৩ হাজারেরও বেশি কন্টেইনার করাচি বন্দরে আটকে আছে, কারণ জাহাজগুলো পণ্য সংগ্রহ করতে পারছে না। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের আগে একেকটি জাহাজের প্রিমিয়াম বীমার পরিমাণ ছিলো এ জাহাজের প্রকৃত মূল্যের দশমিক ১২ শতাংশ। তবে এখন তা বেড়ে ৫ শতাংশে পৌঁছেছে। তাই হরমুজ নৌরুটে পণ্য পরিবহন অত্যন্ত ব্যয়বহুল। বাড়তি ঝুঁকি নেয়ার পক্ষপাতীও নন অপারেটররা।
ইরানের সঙ্গে করিডোর খুলে দেয়ার আরেকটি দিক আফগানিস্তানের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্কের অবনতি। ২০২৫ এর অক্টোবর, এরপর চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি ও মার্চে সংঘাতের জেরে নির্ভরযোগ্য বাণিজ্যিক পথ তোরখাম ও চামান সীমান্ত ক্রসিংগুলো বন্ধ আছে। তাই, এশিয়ার বাজারে পাকিস্তানের স্থলপথে প্রবেশাধিকার এখন অনেকটাই সীমিত।





