যুদ্ধ বন্ধে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আদৌ কোনো শান্তি চুক্তি হবে কি না? তা নিয়ে সংশয়ে ছিলো বিশ্ববাসী। অবশেষে সেই সংশয় আর বাস্তবে রূপ নেয় নি। কেননা যুদ্ধ থামাতে শান্তি চুক্তিতে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তাদের এমন সম্মতিতে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে পুরো বিশ্বের মানুষ। কিন্তু এই ইতিবাচক পদক্ষেপে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে ইসরাইল। কেননা শান্তির এই চুক্তিতে আছে লেবাননের ইস্যুটি।
ইসরাইলের শুধু সরকার পক্ষই নয়, বিরোধী পক্ষের আইনজীবীরাও যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের শান্তি চুক্তির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একে একে তারা চুক্তি নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। সেই ধারাবাহিকতায় ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির বলেন, ‘চুক্তিটি তেলআবিবের জন্য বাধ্যতামূলক নয়।’ অন্যদিকে অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এ চুক্তিটিকে ইসরাইল এবং সমগ্র বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর বলে অভিহিত করেছেন।
চুক্তি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশে পিছিয়ে নেই ইসরাইলের বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতারাও। ইয়াইর গোলান এ চুক্তিকে ইসরাইলের সামরিক সাফল্যের ওপর এক বিধ্বংসী আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুকে বিচ্ছিন্ন ও ক্ষমতাহীন বলেও অভিহিত করেন এ আইনপ্রণেতা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার খবরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইসরাইলের বাসিন্দারা। তাদের মতে, চুক্তিটি মাত্র এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসিদ্ধি করবে।
ইসরাইলের এক বাসিন্দা বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি খুব একটা খুশি নই। আমার মনে হয়, ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত এটা হয়তো দুই বছর টিকবে। তারপর আমরা আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাব।’
উদ্ভূত এ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই শান্তি চুক্তিতে বেশ বেকায়দায় পড়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। পাশাপাশি চুক্তি ইস্যুকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যকার সম্পর্কে চিড় ধরবে বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী জোনাথন রিনহোল্ড বলেন, ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই যে বেশিরভাগ ইসরাইলি এ চুক্তিটিকে অত্যন্ত খারাপ হিসেবে দেখছে। নির্বাচনে এটি নেতানিয়াহুকে প্রভাবিত করবে তা বলার সময় এখনও আসেনি, তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে বর্তমান পরিস্থিতি খুবই খারাপ।’
এদিকে চুক্তির বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে ইরানের কট্টরপন্থীরাও। তাদের দাবি, এ চুক্তিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা, ক্ষতিপূরণ কিংবা হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ থাকার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিতে লেবাননের পাশাপাশি গাজা অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছ ফিলিস্তিনিরা। এমনকি তাদের যাতে এই চুক্তির অন্তর্ভূক্ত করে সেই আহ্বান জানান গাজার বাসিন্দারা।





