দাবানলে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, নিরাপদে সরানো হলো ৬০ হাজার মানুষ

দাবানল
দাবানল | ছবি: সংগৃহীত
0

ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য। ওয়াশিংটনের স্পোকেন শহর থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ৬০ হাজার বাসিন্দাকে। দাবানলে পুড়ে গেছে আড়াই লাখ একরের বিশাল অঞ্চলসহ ৬০০ এর বেশি স্থাপনা। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের পার্বত্য অঞ্চল আইডাহো এবং অরেগন অঙ্গরাজ্যের প্রায় ৩ লাখ একর তৃণভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এদিকে, গ্রিসে দাবানল নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে দুই হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ২ দমকলকর্মী।

ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেন শহরে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষের বসবাস। সাড়ে ৩ হাজার একরজুড়ে জ্বলতে থাকা দাবানলে হুমকির মুখে পড়েছে ৪ হাজারের বেশি স্থাপনা। ধীরে ধীরে দাবানল গ্রাস করছে বনাঞ্চলসহ আশপাশের লোকালয়। চারপাশে জ্বলছে আগুন, আকাশে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী। দাবানলের মৌসুমে ভয়াবহ রূপ ধারণ করায় অঙ্গরাজ্যজুড়ে জারি করা হয়েছে জরুরি অবস্থা। এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। আগুনের সূত্রপাত নিয়েও চলছে তদন্ত।

এক ডজনেরও বেশি সক্রিয় দাবানলে এরইমধ্যে পুড়ে ছাই আড়াই লাখ একরেরও বেশি বনাঞ্চল। নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে ৬০ হাজারের বেশি বাসিন্দাকে। দাবানলে এরইমধ্যে পুড়ে গেছে ৬০০ এর বেশি ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। দাবানল মোকাবিলায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন। আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় দাবানল আরও ভয়াবহ রূপ নেয়ার শঙ্কা জানিয়েছেন ওয়াশিংটনের গভর্নর।

ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বব ফার্গুসন বলেন, ‘খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ওয়াশিংটনের বাসিন্দারা তাদের সবকিছু হারিয়ে ফেলেছেন মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের জীবনে নেমে এসেছে বিপর্যয়। তাদের প্রতি সান্ত্বনা জানানোর ভাষা নেই। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের পাশে দাঁড়াবে সরকার। চলমান সংকট মোকাবিলায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

আরও পড়ুন

শুধু ওয়াশিংটন নয়, ভয়াবহ দাবানলের কবলে পশ্চিম আইডাহো এবং পূর্ব অরেগন অঙ্গরাজ্যও। দুটি অঙ্গরাজ্যে পুড়ে গেছে ৩ লাখ একরের বেশি তৃণভূমি। আগুন নিয়ন্ত্রণে টানা ১০ দিন ধরে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে দমকলকর্মীরা। এরই মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ৬০০ এর বেশি গবাদি পশুর খামার ও ঘরবাড়ি। হুমকির মুখে ৮০০ এর বেশি স্থাপনা।

বজ্রপাতের কারণে আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা স্থানীয় কর্মকর্তাদের। এছাড়াও, প্রবল বাতাসের কারণে আগুনের তীব্রতা ছড়িয়ে পড়ছে লোকালয়ে। এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বাসিন্দাদের।

এছাড়াও ইউটা অঙ্গরাজ্যের একটি দাবানল সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ আকার ধারণ করেছে। মারা গেছে শতাধিক গবাদি পশু। মার্কিন আবহাওয়া সংস্থা অঙ্গরাজ্যের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে জারি করেছে সতর্কতা। এছাড়া, চরম তাপপ্রবাহের কারণে অ্যারিজোনা, ক্যালিফোর্নিয়া ও নেভাডার দক্ষিণাংশেও ছড়িয়ে পড়তে পারে দাবানলের তীব্রতা।

আরও পড়ুন

এদিকে, দাবানল নিয়ন্ত্রণে এখনো লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। সময়ের সাথে সাথে গ্রিসের দাবানল পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। চোখের সামনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি ও স্থাপনা। প্রবল বাতাসের কারণে আলাদা তিনটি সক্রিয় দাবানল দ্রুত গ্রাস করছে বিস্তৃত এলাকার জনবসতি, বনাঞ্চল এবং বাড়িঘর। ধ্বংসাত্মক দাবানল গ্রিসের পাহাড়ের ঢাল বেয়ে সমুদ্র পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। আগুন ধেয়ে আসছে রাজধানীর এথেন্সের দিকে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে শত শত দমকলকর্মী। বিশাল দাবানল নিয়ন্ত্রণে গিয়ে রাজধানী এথেন্সের পশ্চিমাঞ্চলে অগ্নিনির্বাপক দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন দুই ক্রু। প্রবল বাতাসের মুখে একটি হেলিকপ্টার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আরেকটিকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এদিকে, স্পেনে দাবানলের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আসার পর ফ্রান্সের একটি বিশাল দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার ঘোষণা দিয়েছে ফরাসি কর্মকর্তারা। তবে ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা। এরই মধ্যে ঘরবাড়ি হারিয়েছেন ফ্রান্স ও স্পেনের সাড়ে ৩ লাখের বেশি মানুষ। মৌসুম শেষ না হওয়ায় ইউরোপজুড়ে এখনো চোখ রাঙাচ্ছে দাবানলের তীব্রতা।

জেআর