মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: বাড়ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ

বাড়ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ
বাড়ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ | ছবি: এখন টিভি
0

জীবাশ্ম জ্বালানি তেলের বাজারে চলমান অস্থিরতার সময়টি চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পের জন্য আশীর্বাদ হয়ে ওঠতে পারে বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা। এমনকি ইউক্রেনে রুশ অভিযান শুরুর সময়কার মতো করে; ইরান যুদ্ধেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়তে পারে। এরই মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে নিজেদের সুরক্ষিত করেছে চীন।

ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে সীমিত হয়ে পড়েছে জ্বালানি সরবরাহ। যে কারণে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটে ধুঁকছে পুরো বিশ্ব। বিভিন্ন দেশে ফিলিং স্টেশনে দেখা যাচ্ছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন।

অপরিশোধিত তেলের বাজার লাগামহীন হয়ে পড়ায় বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি ও চরম অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কা প্রকট হচ্ছে। তবে, জীবাশ্ম জ্বালানির বাজারে চলমান এ অস্থিরতার সময়টি চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পের জন্য আশীর্বাদ হয়ে ধরা দিতে পারে বলে মনে করছে বাজার বিশ্লেষকরা। কারণ, অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন ও রপ্তানি করেও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারছে না চীনের বহু প্রতিষ্ঠান।

আরও পড়ুন:

পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিনো অটো ইনসাইটসের ধারণা, জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এশিয়ায় বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে চীনা ব্র্যান্ডগুলো। এতে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্থিকভাবে ব্যাপক লাভবান হতে পারে চীনের অনেক বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্র্যান্ড। কারণ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ সত্ত্বেও ইরান যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এশিয়ায়।

এ অবস্থায় বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২২ সালে ইউক্রেনে রুশ অভিযানে ইউরোপে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করেছিলো। ঠিক সেভাবেই, বর্তমান তেল সংকটও এশিয়ার পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও বৈদ্যুতিক গাড়ি শিল্পের জন্য আরেকটি টার্নিং পয়েন্ট হয়ে ওঠতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে থেকে ৪০ শতাংশেরও বেশি জ্বালানি আমদানি করলেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি শিল্পকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে গেছে বেইজিং। ফলে জ্বালানি সংকটের মধ্যেও নিজকে সুরক্ষিত রেখেছে চীন।

পরিসংখ্যান বলছে, বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রসারে গত বছর চীনে জ্বালানি তেলে ব্যবহার কমেছে প্রায় ১০ শতাংশ। নতুন গাড়ি বিক্রির প্রায় ৫০ শতাংশ এবং মোট নিবন্ধিত যানবাহনের প্রায় ১২ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি। আর থিঙ্ক ট্যাঙ্কের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন বলছে, বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারে গত বছর বিশ্বব্যাপী দৈনিক অপরিশোধিত তেলের ব্যবহার কমেছে আনুমানিক ১৭ লাখ ব্যারেল। যা ২০২৫ সালে ইরানের মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশের সমান।

জেআর