ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্যের যোগদান

অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম
অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম | ছবি: সংগৃহীত
0

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। আজ (শনিবার, ১৬ মে) দুপুরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছান।

প্রথমে ক্যাম্পাসস্থ মাওলানা ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং মাজার জিয়ারত করে পরিদর্শন বইতে মাওলানা ভাসানী সম্পর্কে অনুভূতি লিখেন ও স্বাক্ষর করেন তিনি। এরপর উপাচার্যের কার্যালয়ে বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ নতুন উপাচার্যের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, প্রভোস্ট ও সকল অফিস প্রধানদের সাথে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে তাকে চার বছরের জন্য নিয়োগ প্রদান করেন। তিনি একই দিনে উপাচার্য হিসেবে যোগদান করেন।

দীর্ঘ ৪০ বছরের শিক্ষকতা, বহুমাত্রিক গবেষণা এবং বর্ণাঢ্য প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এ শিক্ষাবিদকে উপাচার্য হিসেবে পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

মেধাবী শিক্ষাজীবন ও টাঙ্গাইলের সাথে আত্মিক সম্পর্ক অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের শিক্ষাজীবন অত্যন্ত কৃতিত্বপূর্ণ। তিনি টাঙ্গাইলের কৃতি সন্তান। সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ থেকে এইচএসসিতে ঢাকা বোর্ডে ৪র্থ স্থান অধিকার করেন।

পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিংয়ে প্রথম শ্রেণিতে বি.কম (সম্মান) এবং এম.কম ডিগ্রি অর্জন করেন। একজন মর্যাদাপূর্ণ ‘কমনওয়েলথ স্কলার’ হিসেবে তিনি যুক্তরাজ্যের গ্লাসগোর স্ট্র্যাথক্লাইড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম.ফিল এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৮৬ সালের জুলাই মাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি উচ্চশিক্ষায় নিরলস অবদান রেখে চলেছেন।

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে যোগদানের পূর্ব পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ব্যুরো অব বিজনেস রিসার্চ’-এর পরিচালক এবং ‘সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড পলিসি রিসার্চ’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে এটি তার দ্বিতীয় মেয়াদ। এর আগে তিনি ২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত সিলেটের ‘লিডিং ইউনিভার্সিটি’র উপাচার্য হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট মেম্বার (১৯৯০-১৯৯২) ও ফিন্যান্স কমিটির সদস্য, ইউজিসির ফিন্যান্স কমিটির সদস্য, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ-এর চেয়ারম্যান (২০১০) ও ভাইস-চেয়ারম্যানসহ (২০১৫) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে তিনি সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

গবেষণা ও প্রকাশনায় অনবদ্য অবদান: একাডেমিক ও গবেষণায় ড. শহিদুল ইসলাম দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমাদৃত। তিনি দেশের মার্কেটিং শিক্ষার অন্যতম পথিকৃৎ এবং ‘মার্কেটিং প্রমোশন’, ‘মার্কেটিং’ সহ একাধিক পাঠ্যপুস্তক ও গবেষণাধর্মী গ্রন্থের রচয়িতা।

তার অধীনে অসংখ্য শিক্ষার্থী পিএইচডি ও এম.ফিল ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি বিশ্বব্যাংক, ইউজিসি, বিআইডব্লিউটিএ, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা প্রকল্পে প্রধান পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। দেশি-বিদেশি শীর্ষস্থানীয় জার্নালে তার অসংখ্য গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে।

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে যোগদানের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, গবেষণার মান বৃদ্ধি এবং সেশনজটমুক্ত আধুনিক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেন।

এএইচ