ওবায়দুল কাদের ও ১৩ সাবেক সচিবের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ওবায়দুল কাদের
ওবায়দুল কাদের | ছবি: সংগৃহীত
0

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য অধিগ্রহণ করা জমিতে বেআইনিভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ ও তা নিজেদের নামে বরাদ্দ নেয়ার অভিযোগে সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং ১৩ জন সাবেক সচিবের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি শেষে আজ (মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।

দুদক আদালতকে জানিয়েছে, মামলার আসামিরা সপরিবারে দেশত্যাগ করে অন্য দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তারা বিদেশে পালিয়ে গেলে তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘায়িত বা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। দুদকের এই যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আদেশ মঞ্জুর করেন।

আরও পড়ুন:

ওবায়দুল কাদের ছাড়াও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া ১৩ জন সাবেক শীর্ষ আমলা হলেন- সেতু বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সাবেক সচিব মো. নজরুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের সাবেক সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, সাবেক বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আব্দুল জলিল, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, সাবেক সিএএজি ও সোনালী ব্যাংকের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ শহিদুল হক, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সমন্বয়ক জুয়েনা আজিজ, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী শফিকুল আযম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব আখতার হোসেন ভূঁইয়া এবং এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ও জ্বালানি বিভাগের সাবেক সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম।

গত ৮ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক খোরশেদ আলম এই মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ৪০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই মূল উদ্দেশ্য উপেক্ষা করে সরকারি কর্মচারীদের আবাসনের জন্য ওই জমিতে ভবন নির্মাণ এবং ৯৯ বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি লিজ দেওয়া হয়।

দুদকের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই প্রক্রিয়ায় স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন-২০১৭-এর ১৯(১) ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, এ ধরনের পরিবর্তনের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক হলেও সেতু কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করেনি।

এছাড়া বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আইন-২০১৬-এর ১৩(২) ধারা অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ কেবল অস্থায়ী ইজারা দিতে পারে। অথচ আসামিরা সেতু কর্তৃপক্ষের ১০৬ ও ১০৭তম বোর্ড সভায় বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তর ও প্রকল্পের স্থায়ী কর্মচারীদের জন্য নির্মিতব্য ফ্ল্যাট দীর্ঘমেয়াদি লিজ প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১৮ অনুমোদন করেন। এই নীতিমালা প্রণয়নে সরকারি গেজেট প্রকাশের বাধ্যবাধকতাও মানা হয়নি।

দুদকের অভিযোগ, আসামিরা ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত ওই বোর্ড সভাগুলোতে উপস্থিত থেকে পরস্পর যোগসাজশে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং প্রতারণামূলকভাবে সরকারি স্বার্থসংশ্লিষ্ট জমিতে নিজেদের লাভবান করতে ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করেছিলেন। বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

এনএইচ