আজ (বুধবার, ২০ মে) বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার শুনানি হয়। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য ‘উপস্থিত সাক্ষীকে জেরা করার জন্য সময়ের আবেদন’ শীর্ষক একটি দরখাস্ত দাখিল করেন। দরখাস্তে উল্লেখ করা হয়, নিয়োজিত আইনজীবী শারীরিক অসুস্থতার কারণে আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি, তাই জেরার জন্য সময় প্রার্থনা করা হচ্ছে।
তবে আদালতে দরখাস্ত দাখিল করা হলেও নিয়োজিত আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে অন্য কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। এ বিষয়ে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর এস ইউ নুরুল ইসলাম আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করে বলেন, ‘নিয়োজিত আইনজীবী শুধু স্বাক্ষরিত দরখাস্ত পাঠিয়ে অসুস্থতার অজুহাতে সময় চাইতে পারেন কি না, তা প্রচলিত আদালত প্র্যাকটিসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
শুনানি শেষে আদালত সময় আবেদন শুনানি ছাড়াই নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নিহত আইনজীবী আলিফের পিতার সাক্ষ্য সমাপ্ত ঘোষণা করে পরবর্তী সাক্ষীর প্রতি সমন ইস্যুর আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৪ জুন।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ মামলায় চার্জ গঠনের পর ২ ফেব্রুয়ারি নিহত আইনজীবী আলিফের পিতা প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। এরপর থেকে ধারাবাহিকভাবে জেরা কার্যক্রম সম্পন্ন না করে সময় আবেদন করে আসছে আসামিপক্ষ। এ নিয়ে মোট ছয়বার সময় আবেদন করা হয়।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, প্রায় ৮০ বছর বয়সী, অসুস্থ ও বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত নিহত আলিফের পিতা। প্রতিটি ধার্য তারিখে লোহাগাড়া থেকে আদালতে উপস্থিত হচ্ছেন। কিন্তু বারবার সময় মঞ্জুর হওয়ায় তিনি চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আজ আদালতে আমাদের পক্ষ থেকে জোরালো বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। আদালত যথার্থ বিবেচনায় পিডাব্লিউ-১ এর সাক্ষ্য সমাপ্ত ঘোষণা করেছেন। আমরা আশা করছি, দেশ-বিদেশে আলোচিত এ স্পর্শকাতর ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের মামলাটি দ্রুত ও বিচারসম্মত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হবে।’
আজকের শুনানিতে কারাগারে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ভার্চুয়ালি আদালতে যুক্ত হন। এছাড়া অন্য আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানিকালে চিন্ময় দাস আদালতের অনুমতি নিয়ে তার মা ও আশ্রমের দুই সন্ন্যাসীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন করেন। পাশাপাশি জামিন, চিকিৎসা ও সময় চেয়ে তিনটি আবেদন দাখিল করা হলেও আইনজীবীর অনুপস্থিতির কারণে আদালত সেগুলোও শুনানি ছাড়াই নামঞ্জুর করেন।




