রামিসা হত্যা মামলার বিচার শুরু, আজ সাক্ষ্যগ্রহণ

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত | ছবি: সংগৃহীত
0

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ১৩ দিনের মাথায় শুরু হলো বিচার। আসামি সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে গঠন করা হয়েছে দু’টি অভিযোগ। আজ (মঙ্গলবার, ২ জুন) থেকে ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। এর আগে, দেশের বিচার ব্যবস্থার ইতিহাসে দ্রুততম ৫ দিনের মাথায় এ মামলার চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ।

গত ১৯ মে পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির স্কুল শিক্ষার্থী রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করে প্রতিবেশী সোহেল রানা। এই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। প্রধান আসামি সোহেল রানা ও অপরাধের সহযোগী তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরদিন শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় প্রধান আসামি সোহেল রানা। তদন্ত শেষে মাত্র ৫ দিনের মাথায় দুই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

গতকাল (সোমবার, ১ জুন) সকালে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয় সোহেল রানাসহ দুই আসামিকে। পরে শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল বিচার শুরুর আদেশ দেন। আজ (মঙ্গলবার, ২ জুন) পরবর্তী স্বাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, আসামিদের বিরুদ্ধে অকাট্য প্রমাণ রয়েছে। আসামির সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করা হবে আদালতে।

আরও পড়ুন:

রাষ্ট্রপক্ষে স্পেশাল প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষী উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এবং একই সঙ্গে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া একটানা চলিতে থাকিবে। ট্রাইব্যুনাল ১ নম্বর আসামির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯-এর ২ ধারায় চার্জ গঠন করেছেন। স্বপ্না খাতুনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯-এর ২, ৩০ এবং পেনাল কোডের ২০১ ধারায় চার্জ গঠন করেছেন।’

আসামিদের নির্দোষ দাবি করে এ মামলা থেকে অব্যাহতির দাবি জানান রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী। বলেন, স্বাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে আসামিরা ন্যায়বিচার পাবে।

রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কলিমুল্লাহ বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা হবে মামলার যেহেতু চার্জ গঠন হয়েছে। মামলার আমরা আমাদের আসামি পক্ষে যে সব যুক্তি উপস্থাপন করা দরকার, আমরা চেষ্টা করব ন্যায়বিচারটা নিশ্চিত হোক।’

আদালত থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে প্রধান আসামি সোহেল রানা ধর্ষণের দায় স্বীকার করে বলেন, ‘হত্যার সঙ্গে জড়িত ডলার নামে আরেক ব্যক্তি।’

এ মামলায় ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে বিচার শেষ করতে আদালতের অবকাশকালীন ছুটিও বাতিল করেছেন বিচারক।

জেআর