বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘যাদের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তাদের বেশিরভাগই স্বতন্ত্র প্রার্থী। আমরা নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্থার কমিশনের পক্ষ থেকে বলেছিলাম, শুধু ৫০০ ব্যক্তির স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতা যেন থাকে এবং এ স্বাক্ষরগুলো যেন হলফনামার মাধ্যমে দেয়া যায়। শনাক্তের ক্ষেত্রে স্বাক্ষরকারীদের চাপ প্রয়োগের অভিযোগ আছে। এর মাধ্যমে জালিয়াতির সুযোগ থেকে যায়। সংস্কার প্রস্তাবটি আরপিওতে সংযুক্ত হলে এ ধরনের কারসাজি করার আর সুযোগ ছিল না। দুর্ভাগ্যবশত নির্বাচন কমিশন এটি আরপিতে অন্তর্ভুক্ত করেনি, যে কারণে এ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘যারা নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তাদের প্রার্থিতা অকারণে বাতিল করা হলে নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। যাদের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে, তাদের একটি বিরাট অংশ স্বতন্ত্র। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ১ শতাংশ ভোটারের যে স্বাক্ষর দরকার, এটি অযৌক্তিক।’
অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বদিউল আলম মজুমদার।
আরও পড়ুন:
এসময় তিনি বলেন, ‘গত ১৫-১৬ বছরে ব্যাপক দলীয়করণ হয়েছে। যদিও দলীয়করণ অনেক আগেই শুরু হয়েছে। এ দলীয়করণের কারণে আমাদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দলীয় সদস্যে পরিণত হয়েছে, স্বার্থ রক্ষা করেছে। এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া সহজ নয়। যেহেতু এখন নির্বাচন হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে, আশা করবো সরকার ও নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করবে যাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষভাবে ভূমিকা পালন করে।’
ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এবারের নির্বাচনটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ নির্বাচন গণতন্ত্রের ভিত সৃষ্টি করবে। তাই এ নির্বাচনটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হওয়া দরকার। নির্বাচনের পরে আমাদের গণতান্ত্রিক উত্তরণ হওয়া দরকার। কতগুলো সুদূরপ্রসারী সংস্কার করা দরকার। আইনি সংস্কার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং কাঠামোগত সংস্কার। যার মাধ্যমে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করবে। প্রতিবারই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, মাঝে মাঝে নয়। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। কিন্তু শুরু হইতে হবে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে। এর জন্য রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ সকলকেই ভূমিকা রাখতে হবে। জাতির ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে তা নির্ধারণ করে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন।’





