ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘হীনম্মন্যতা পরিহার করে নিজেদেরকে নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। সংবিধান আমাদের যে অধিকার দিয়েছে, তা সমভাবে ভোগ করার আত্মবিশ্বাস রাখতে হবে। ডেপুটি স্পিকার স্মরণ করিয়ে দেন যে, মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ছাত্র-জনতার সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান—কোনো বিপ্লবেই কেউ সংখ্যালঘু হিসেবে অংশ নেয়নি। সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই আজ একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ সম্ভব হয়েছে।’
নারী শক্তির গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। নারীদের বিকশিত করতে না পারলে বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই এলাকাটি একটি বাগানের মতো, যেখানে হিন্দু, মুসলিম, গারো, হাজং ও খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায় মিলে চমৎকার এক সহাবস্থান তৈরি করেছে। নির্বাচনের আগে আমি বলেছিলাম, আমি এই বাগানের মালি হিসেবে কাজ করতে চাই; আমি আমার সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর।’
আরও পড়ুন:
আদিবাসীদের ভূমি সমস্যা নিয়ে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘আমি ভূমি মন্ত্রণালয়ে থাকাকালীন আদিবাসীদের ভূমি ব্যবস্থাপনা নিয়ে খোঁজ নিয়েছি। এখানকার ভূমি ব্যবস্থাপনা যতটা উন্নত হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো এখানেও কীভাবে ভূমি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটানো যায়, সে বিষয়ে আমি স্থানীয় কমিউনিটি লিডারদের আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছি। আমরা একসঙ্গে বসে এই সমস্যার সমাধান খুঁজবো।’
এর আগে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী নৃত্য ও ফুলের মাধ্যমে ডেপুটি স্পিকারকে স্বাগত জানানো হয়। গারো সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে তাকে বিশেষ সম্মাননা মুকুট পরিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। পরে তিনি কেক কাটা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের গারো সম্প্রদায়ের দুই খেলোয়াড়ের হাতেও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ডেপুটি স্পিকার।
জিবিসি সেন্ট্রাল উইমেন্স সোসাইটির সভাপতি পা. সুলেখা স্রং-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফুলবাড়ীয়া ওয়ার্ল্ড ভিশনের এরিয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার নম্রতা হাউই। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও গারো সম্প্রদায়ের নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।





