আসছে ‘ফুয়েল কার্ড’: মিলবে যেসব সুবিধা, আবেদন করতে যা যা লাগবে

ডিজিটাল ‘ফুয়েল কার্ড’
ডিজিটাল ‘ফুয়েল কার্ড’ | ছবি: এখন টিভি
0

রাজধানীর বেশিরভাগ পেট্রোল পাম্পে (Petrol pumps) জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। যেখানে তেল পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং তেলের অপচয় ও মজুত রোধে সরকার সব ধরনের যানবাহনের জন্য ‘ফুয়েল কার্ড’ (Fuel Card) চালুর পরিকল্পনা করছে। জ্বালানি বিভাগ (Energy Division) ইতোমধ্যে এই বিশেষ কার্ড নিয়ে কাজ শুরু করেছে।

ফুয়েল কার্ডের মূল বৈশিষ্ট্য ও গ্রাহক সুবিধাসমূহ (Features & Benefits of Fuel Card)

সুবিধার ধরন (Benefit Type) বিস্তারিত বর্ণনা (Detailed Description)
ডিজিটাল পেমেন্ট (Digital Payment) নগদ টাকার ঝামেলা ছাড়াই কিউআর কোড (QR Code) দিয়ে দ্রুত বিল পরিশোধ।
খরচ নিয়ন্ত্রণ (Expense Control) জ্বালানি ক্রয়ের সীমা (Limit) নির্ধারণ করে অপচয় কমানোর সুবিধা।
জ্বালানি ট্র্যাকিং (Fuel Tracking) প্রতিটি লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড এবং ব্যবহারের বিস্তারিত রিপোর্ট প্রদান।
নিরাপত্তা (Enhanced Security) নির্দিষ্ট গাড়ি বা চালকের তথ্যের সাথে যুক্ত থাকায় চুরি বা অপব্যবহার রোধ।
মজুতদারি রোধ (Anti-Hoarding) তেলের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করা এবং কালোবাজারি বা অবৈধ মজুত বন্ধ করা।
সময়ের সাশ্রয় (Time-Saving) কাগজের রসিদের প্রয়োজন নেই এবং দ্রুত তেল সংগ্রহের নিশ্চয়তা।

আরও পড়ুন:

কেন এই ফুয়েল কার্ড? (Why Fuel Card is being introduced?)

জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ (Middle East War) দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ (Oil supply) কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর ফলে তেলের উচ্চমূল্য ও সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় তেলের সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করতে এবং কালোবাজারি রুখতে ডিজিটাল ফুয়েল কার্ড বা ফ্লিট কার্ড (Fleet card) চালুর বিকল্প নেই।

ফুয়েল কার্ড কী এবং কীভাবে কাজ করবে? (What is Fuel Card and how it works?)

ফুয়েল কার্ড হলো একটি বিশেষ পেমেন্ট কার্ড (Payment card), যা সাধারণত পেট্রোল, ডিজেল বা অন্যান্য জ্বালানি কেনার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি অনেকটা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মতো কাজ করবে। তবে এর বিশেষত্ব হলো এতে একটি কিউআর কোড (QR Code) থাকবে। গ্রাহকরা তাদের মোটরসাইকেল, কার, ট্রাক বা বাসের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পাম্প থেকে এই কোড স্ক্যান করে তেল সংগ্রহ করতে পারবেন।

ফুয়েল কার্ড |ছবি: এখন টিভি

ফুয়েল কার্ডের মূল বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা (Key Features and Benefits)

সহজ পেমেন্ট ও ট্র্যাকিং (Easy payment and tracking): এই কার্ডের মাধ্যমে নগদ টাকা ছাড়াই (Cashless transaction) তেল কেনা যাবে এবং প্রতিটি লেনদেনের ডিজিটাল রেকর্ড থাকবে।

খরচ নিয়ন্ত্রণ (Expense control): সরকার বা কোম্পানিগুলো এই কার্ডের মাধ্যমে জ্বালানি ক্রয়ের একটি নির্দিষ্ট সীমা (Spending limit) নির্ধারণ করে দিতে পারবে, যা তেলের অপচয় কমাবে।

ডিজিটাল রিপোর্টিং (Digital reporting): কতটুকু জ্বালানি ব্যবহৃত হলো তার বিস্তারিত রিপোর্ট অ্যাপ বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

নিরাপত্তা (Security): কার্ডটি নির্দিষ্ট গাড়ি বা চালকের তথ্যের সাথে যুক্ত থাকায় চুরি বা অপব্যবহারের ঝুঁকি কমবে।

সময়ের সাশ্রয় (Time-saving): কাগজের রসিদ জমানোর ঝামেলা থাকবে না এবং দ্রুত পেমেন্ট সম্পন্ন করা যাবে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, এই পদ্ধতিটি পুরোপুরি চালু করতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষ লাইনে দাঁড়ানোর ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে এবং জ্বালানি খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

আরও পড়ুন:

আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় সম্ভাব্য কাগজপত্র (Necessary Documents)

  • ১. গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সনদ (Blue Book): গাড়ির বৈধ মালিকানা প্রমাণের জন্য।
  • ২. জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): আবেদনকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে।
  • ৩. ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving License): চালকের বৈধতা যাচাইয়ে।
  • ৪. সচল মোবাইল নম্বর ও ইমেইল: ওটিপি (OTP) ও লেনদেনের মেসেজ পেতে।
  • ৫. পাসপোর্ট সাইজ ছবি: মালিক বা চালকের প্রোফাইলের জন্য।

ফুয়েল কার্ডের জন্য আবেদনের সম্ভাব্য ৫টি ধাপ (Application Process Guide)

ধাপ (Step) বিবরণ (Description)
১. অনলাইন পোর্টাল (Online Portal) জ্বালানি বিভাগ বা বিআরটিএ-র নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে (Official Website) গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে।
২. তথ্য প্রদান (Data Submission) গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর (Registration Number), ইঞ্জিন নম্বর এবং মালিকের এনআইডি (NID) প্রদান।
৩. ভেরিফিকেশন (Verification) বিআরটিএ (BRTA) সার্ভার থেকে গাড়ির ফিটনেস ও ব্লু-বুক যাচাই করা হবে।
৪. কার্ড বা কিউআর কোড (QR Code) আবেদন অনুমোদিত হলে গ্রাহককে একটি ডিজিটাল কার্ড বা কিউআর কোড ভিত্তিক অ্যাপ এক্সেস দেওয়া হবে।
৫. সংগ্রহ ও অ্যাক্টিভেশন (Activation) নির্দিষ্ট ব্যাংক বা অফিস থেকে ফিজিক্যাল কার্ড সংগ্রহ করে পিন সেটআপ বা রিচার্জ করে ব্যবহার শুরু।

আরও পড়ুন:


এসআর