ক্যামেরুনের ইয়াউন্দেতে অনুষ্ঠিত ডব্লিউটিওর মন্ত্রী পর্যায়ের চতুর্দশ সম্মেলন (এমসি১৪)-এর ‘ডব্লিউটিও রিফর্ম: ফান্ডামেন্টাল ইস্যুজ’ শীর্ষক অধিবেশনে গতকাল (বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ) বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডব্লিউটিওর মূল ভিত্তি হলো সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যনির্ভর উন্নয়নকে উৎসাহিত করা। বৈষম্যহীনতা ও অন্তর্ভুক্তির নীতির ওপর দাঁড়ানো এ বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা উন্নত, উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করেছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ (এমএফএন), শুল্ক ও কোটামুক্ত বাজার সুবিধা (ডিএফকিউএফ) এবং স্পেশাল অ্যান্ড ডিফারেনশিয়াল ট্রিটমেন্ট (এসঅ্যান্ডডিটি)-এর মতো ব্যবস্থা বৈশ্বিক বাণিজ্যে সমতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।’
আরও পড়ুন:
তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তার ভাষায়, দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ওঠা বিদ্যমান কাঠামো সংস্কারের নামে নষ্ট করা উচিত নয়, কারণ বিশ্বের অধিকাংশ অর্থনীতি এই নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল।
সংস্কার প্রক্রিয়ায় অখণ্ডতা বজায় রাখা, অর্জিত সুবিধা অক্ষুণ্ণ রাখা এবং সব সদস্য দেশের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ফল নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
সম্মেলনে ডব্লিউটিওর মহাপরিচালক এনগোজি ওকনজো ইওয়েলা বলেন, ‘বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থা বর্তমানে বড় চাপের মুখে রয়েছে। সংস্থার বিরোধ নিষ্পত্তি কাঠামো কার্যত অচল এবং ভর্তুকি সংক্রান্ত তথ্য প্রদানে স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে।’
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পথে থাকায় বাংলাদেশের জন্য এই আলোচনা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এলডিসি সুবিধা হারানোর পর শুল্কমুক্ত বাজার প্রবেশাধিকারসহ কিছু বিশেষ সুবিধা আর থাকবে না, যা দেশের বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
সম্মেলনে ১৬৬টি সদস্য দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী ও প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে।





