বাজুসের আড়ালেই চলছে নকল হীরার ছড়াছড়ি, বাড়ছে জালিয়াতি

ডায়মন্ড কিনছেন ক্রেতা
ডায়মন্ড কিনছেন ক্রেতা | ছবি: এখন টিভি
0

নগরীর বেশ কিছু গহনার দোকানে বিক্রি হচ্ছে নকল ও নিম্নমানের হীরা। যেগুলোর মধ্যে গুণগত মান নির্দেশক-কালার, ক্ল্যারিটি, ক্যারেট না থাকার কারণে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ক্রেতারা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নকল, অবৈধ ডায়মন্ডের দৌরাত্ম্য বন্ধে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির-(বাজুস) উদ্যোগ নিলেও তাতে আশানুরূপ ফল মিলছে না। বাজুসের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অনলাইনেও হীরার নামে সনদ, ল্যাব টেস্ট রিপোর্ট বিহীন, জারকানের পাথর ও মেসোনাইট কম মূল্যে দেদারসে বিক্রি করছে।

ডায়মন্ড, চকচকে বর্ণ, উচ্চ বিনিময় মূল্য আর স্থায়ীত্বের কারণে বহুকাল আগে থেকেই মূল্যবান রত্নের তকমা লেগে আছে এর গায়ে। দেশের বাজারে ভালো মানের এক ক্যারেট হীরার দাম লাখ টাকার কাছাকাছি।

সাম্প্রতিক সময়ে মহামূল্যবান এ হীরা ফেসবুকসহ সোশ্যাল মিডিয়ায় চটকদার বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন ধরনের লোভনীয় অফার দিয়ে বিক্রি হচ্ছে বেশ সস্তায়। যা বাজুসের ক্রয়-বিক্রয় ও বিপণন নির্দেশিকার পরিপন্থি।

সস্তায় হীরা কিনতে ক্রেতা সেজে আমাদের যাত্রা রাজধানীর নিউমার্কেট। অনেক খোঁজাখুঁজি পর ০ দশমিক ১৫ গ্রাম ওজনের একটি ডায়মন্ডের নোজ পিন সংগ্রহ করলাম সাড়ে তিন হাজার টাকায়। এবার মান পরীক্ষার পালা। হীরা সংগ্রহ করার পর এখন টেলিভিশনের অনুসন্ধানী দলের গন্তব্য একটি আন্তর্জাতিক মানের ল্যাবের দিকে।

আরও পড়ুন:

সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রায় ৩ ঘণ্টাব্যাপী ল্যাব টেস্টের পর জানা গেলো অলংকারটির মান একেবারে তলানিতে।

অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ল্যাব এসজিএলের ম্যানেজার তানভির আল মাহমুদ খান বলেন, ‘খুবি তলানিতে এই হীরার মান। ক্যারেট যেহেতু ছোটো তাই আরও ভালো মানের নেয়া উচিত ছিলো।’

ল্যাব টেস্টের ফলাফল নিয়ে আবারও যাত্রা নিউমার্কেটের উদ্দেশ্যে। এ বিষয়ে হীরা ব্যবসায়ীর বক্তব্য শুনতে চাই আমরা।

এক হীরা ব্যবসায়ী বলেন, ‘১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকার যে ডায়মন্ড নেয়া হয় ওইটাতে কোনো ডায়মন্ড থাকে না।’

বাজুসের বিপণন নির্দেশিকায় স্পষ্ট উল্লেখ আছে, সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডায়মন্ড আমদানির প্রমাণপত্র, বিক্রির অনুমতিপত্র, বৈধ ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ, এয়ারপোর্টের ডিক্লারেশন, ভ্যাট সনদ হালনাগাদ রাখতে হবে। তবে এ বিষয়ে দায়সারা বক্তব্য ব্যবসায়ীদের।

আরও পড়ুন:

ব্যবসায়ীরা জানান, তাদের কাছে বিভিন্ন মাধ্যমে এ ডায়মন্ডগুলো আসে তাই তাদের কাছে কাগজপত্র নেই। ক্রেতারা জানান, মূলত নানা ধরনের অফারের ফাঁদে পড়ে স্বল্প মূল্যে এসব অলংকার কিনছেন তারা।

বাজুসের প্রাইস মনিটরিং কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘ডায়মন্ড ক্রয়-বিক্রয়ে সব ধরনের অনিয়ম বন্ধে তৎপর আছি। আমরা যে কোনো সময় এই সব দোকানগুলোয় গিয়ে কিনবো, তারপর পরীক্ষা করবো।’

আর জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক জানান, এ বিষয়ে ৩৫টির বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে তাদের কাছে।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মাসুম আরেফিন বলেন, ‘ফেসবুকের বিভিন্ন পেইজও বিভিন্ন দোকানের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে।’

স্বর্ণের মতো ব্যাগেজ রুলে দেশে ডায়মন্ড আনার সুযোগ নেই। বন্ড সুবিধা ছাড়া অমসৃণ ডায়মন্ড আমদানিতে সরকার নির্ধারিত কর ৮৯ শতাংশ। মসৃণ হীরা আমদানিতে যেটি ১৫১ শতাংশ। এ শুল্ক কর ফাঁকি দিতেই মূলত অবৈধ পথে দেশে আনা হচ্ছে মূল্যবান হীরা।

জেআর