কদেশের উত্তর জনপদের গ্রাম, উপশহর কিংবা শহরতলীতে মুঠোফোন নির্ভরতা এখন তুঙ্গে। কেবল কথা বলার যন্ত্র হিসেবে নয়, হাতের এই অ্যান্ড্রয়েড ফোন এখন বিভিন্ন কাজেরও প্রধান অনুষঙ্গ। আর তাইতো কাজে কিংবা অবসরে সমানতালে ব্যবহার হওয়া এই মোবাইল ফোনের সঙ্গেই মানুষের কাটছে সিংহভাগ সময়।
কিন্তু এই মুঠোফোন হয়ে উঠেছে বিড়ম্বনার নতুন কারণ। জ্বালানি সংকট প্রকটে নেটওয়ার্ক না পাওয়ার ভোগান্তি। একদিকে লোডশেডিং অন্যদিকে নেটওয়ার্ক সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে নিত্যদিনের কাজ।
এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘নেটওয়ার্কের সমস্যা, বিদ্যুৎ থাকছে না। আমাদের ব্যবসার সমস্যা হয়ে যাচ্ছে।’
আরেকজন বলেন, ‘দীর্ঘক্ষণ কারেন্ট না থাকার কারণে আইপিএসগুলো ব্যাক আপ দিতে পারছে না।’
ঢাকার অদূরেই গাজীপুরে বিদ্যুতের কি অবস্থা দেখতে জেলা সদরে এখন টিভি। যেখানে একটি মোবাইল ফোন কোম্পানির ডাটা সেন্টারে ঢুকতেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের শুরু। প্রায় ঘণ্টাখানেক সংযোগহীন থাকার পর আসলো বিদ্যুৎ, ততক্ষণে ডাটা সেন্টারটির প্রায় ২২৭ লিটার ডিজেল পুড়ে শেষ।
ডাটা সেন্টারের দায়িত্বে থাকা একজন জানান, যতবার বিদ্যুৎ শিফটিং হবে ততবার পাওয়ার অফ হয়ে যাবে। আবার অটো হবে। আমাদের যন্ত্রাংশগুলো আবার অন হবে অফ হবে। এটা কমিউনিকেশনের ক্ষেত্রে সমস্যা্ হয়।
শুধু ডাটা সেন্টারই নয়। গাজীপুরের অধিকাংশ জায়গাই একটা লম্বা সময় থাকছে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন। সদরের ভারারূল গ্রামে গিয়ে দেখা গেল প্রতি ঘণ্টায় হচ্ছে লোডশেডিং। এতে দিনে অন্তত ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা করে থাকছে না বিদ্যুৎ। সে সময় টাওয়ারগুলো ব্যাটারির মাধ্যমে সচল থাকে কিন্তু পর্যাপ্ত সময় ব্যাটারি চার্জ করতে না পারায় চালাতে হয় জেনারেটরের মাধ্যমে।
জ্বালানির অভাবে রেশনিংয়ের মাধ্যমে টাওয়ার সচল রাখছেন টাওয়ার কর্মীরা। এতে নেটওয়ার্ক নিয়ে বিপত্তি বাড়ে ব্যবহারকারীদের।
দেশের অন্যতম টাওয়ার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান টাওয়ারকো বলছে, দিনকে দিন টাওয়ার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে। সংকট সত্ত্বেও বিভিন্নভাবে তারা সেটিকে চালিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন।
বাংলাদেশ টাওয়ারকো অ্যাসোসিয়েশনের অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি সুনীল আইজ্যাক বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংকটের কারণে ডাটা সুবিধা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তার প্রভাব দেশের ওপর পড়ে। সৌর বিদ্যুৎ ও ডিজেল জেনারটরের মাধ্যমে আমরা সংকট কাটানোর চেষ্টা করছি।’
মোবাইল অপারেটরগুলো বলছে, সংকট সময়ে ফুয়েল পাস দেয়া এবং তেল সংগ্রহকারীদের নিরাপত্তা দিতে হবে।
রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার মো. সাহেদ আলম বলেন, ‘ডিসি অফিস থেকে চিঠি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরেও দেখা যায় তারা আক্রমণের মুখে পড়ে যাচ্ছে। যখন আমাদের সাইটের জন্য ফুয়েল সংরক্ষণ করা হয় তখন সেখানেও দেখা যায় একটা ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা ধৈর্য্য ধরছি, কেননা আমরা এমন একটা সিচুয়েশনে আছি যেটা স্বাভাবিক না। এটা হয়তো কিছুদিনের মধ্যে স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসবে।’
মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যামটব বলছে, টেলিকম খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভেঙ্গে পড়বে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা। তাই দ্রুত এ সংকট নিরসনে বিটিআরসির পদক্ষেপ নিতে হবে।
অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের মহাসচিব মোহাম্মদ জুলফিকার বলেন, টেলিকমের ফুয়েলটা যেন টেলিকমের জন্যই এভেইলেবল রাখা হয়। সেটা পাম্প হোক, ডিপো হোক। এবং আমাদের রিপ্রেজেন্টেটিভ গিয়ে ওখান থেকে সংগ্রহ করবে। সেই সঙ্গে আমাদের পরিবহন ব্যবস্থার মাধ্যমে আমরা যেন যেকোনো জায়গায় নিয়ে যেতে পারি।





