কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন উদ্যোগ

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভবন
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভবন | ছবি: এখন টিভি
0

বরাবরের মতো এবারও ঈদের দিনই কোরবানির পশুর বর্জ্য সরাতে বড় প্রস্তুতি নিচ্ছে দুই সিটি করপোরেশন। ঈদের দিন দুপুর ১২টায় শুরু হবে বর্জ্য সংগ্রহ অভিযান এবং মাত্র ৮ ঘণ্টার মধ্যে হাজার হাজার টন বর্জ্য সরানোর লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। এজন্য বাড়ানো হয়েছে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও যানবাহনের সংখ্যা। এছাড়া যত্রতত্র আবর্জনার স্তূপ এড়াতে সরবরাহ করা হবে পাটের ব্যাগ।

চলতি বছর ঢাকা শহরে প্রায় ৯ লাখ পশু কোরবানির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যার বেশিরভাগই রাস্তা বা অলিগলিতে কাটা হয়। এতে শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে হাজার হাজার টন বর্জ্য।

দুই সিটি মিলিয়ে ১২৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কোরবানী হয় উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মিরপুর, মোহাম্মাদপুর ও উত্তরায় এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ি ও পুরান ঢাকা এলাকায়।

বরাবরের মতো এবারও ঈদের দিনই বর্জ্য সরানোর প্রস্তুতি রয়েছে দুই সিটি করপোরেশনেরই। ঢাকার দুই সিটির প্রশাসকরা জানিয়েছেন, ঈদের দিন বেলা ১২টাতেই শুরু হবে বর্জ্য সংগ্রহ অভিযান। ৮ ঘণ্টার মধ্যে সব আবর্জনা পরিষ্কারের লক্ষ্য তাদের।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘গবাদি পশুর হাটের একটা ব্যাপার থাকে, কোরবানির ব্যাপার থাকে এবং এসবের সাথে দ্রুত সংশ্লিষ্ট পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপার থাকে। কোরবানি হওয়ার পর ইনশাআল্লাহ ৮ ঘণ্টার মধ্যে আমরা ঢাকা শহরটাকে পরিষ্কার করার চেষ্টা করবো।’

ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম লিটন মিল্টন বলেন, ‘আমাদের ১০টি জোন, এই জোনগুলোর যারা নির্বাহী কর্মকর্তা আছেন, তাদের নেতৃত্বে আমাদের টিম গঠন করা আছে। কোরবানির দিন তারা রাস্তায় কাজ করবে।’

আরও পড়ুন:

দুই সিটিতে আনুমানিক ৪০ হাজার টনের বেশি কোরবানির বর্জ্য হয়। অপসারণে নিজেদের পরিবহনের পাশাপাশি ভাড়ায় নেয়া হয় বর্জ্য পরিবহনের যানবাহন। দুই সিটির প্রশাসক জানান, বাড়ানো হবে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা। এছাড়া আবর্জনা সংগ্রহ করতে পশু কোরবানির স্থানে সরবরাহ করা হবে পাটের ব্যাগ।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘কোরবানি হওয়ার পর দুপুর ১২টা থেকে বর্জ্য যেগুলো থাকবে সেগুলো যেন খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিষ্কার করা যায়, সেটার জন্য আমরা চেষ্টা করবো। এর জন্য প্রত্যেকবার যে ব্যবস্থা নেয়া হয়, এবার আমরা গাড়ির ও কর্মীর সংখ্যা আরও বাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছি।’

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘কোরবানি বিশাল এক কর্মযজ্ঞ। এখানে পরিবহনের কিছু বিষয় আছে। আমাদের সিটি করপোরেশনের যত পরিবহণ আছে, সেগুলো দিয়ে আমরা এটা শেষ করতে পারবো না। তাই বাইরে থেকে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে আমরা পরিবহণ নেবো এবং এর জন্য আমরা এরই মধ্যে টেন্ডার করেছি। এরপর মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদের কাজ আমরা শুরু করে দেবো।’

গেলো বছর দক্ষিণ সিটি ১২ ঘণ্টা ও উত্তর সিটি রাতের মধ্যেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলো।

এসএইচ