মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার অগ্রিম কর নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা ট্যাক্স আপডেট
মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা ট্যাক্স আপডেট | ছবি: এখন টিভি
0

দেশের প্রায় এক কোটি মোটরসাইকেল (Motorcycle) ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা (Battery operated autorickshaw) মালিক ও চালকদের জন্য বড় ধরণের খুশির খবর এলো। এই দুই জনপ্রিয় যানবাহনের ওপর নতুন করে অগ্রিম আয়কর (Advance income tax) আরোপের যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে সরকার। ফলে আগামী অর্থবছরে সাধারণ মানুষকে বাড়তি কোনো ট্যাক্সের বোঝা বইতে হবে না।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) ও সরকারি সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে এমন মানবিক ও জনকল্যাণমূলক বিবেচনা থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন:

আগের প্রস্তাবনায় কত টাকা কর ধরার পরিকল্পনা ছিল?

প্রাথমিক খসড়া বা প্রস্তাবনা অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ক্ষমতা বা সিসি (Engine CC) ভেদে বছরে সর্বনিম্ন ২,০০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর আদায়ের একটি পরিকল্পনা ছিল।

অন্যদিকে, দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে অবস্থান ও রুট ভেদে বছরে ১,০০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত কর নির্ধারণের আলোচনা চলছিল। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে এই সবকটি প্রস্তাবই বাতিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সাধারণ মানুষ ও রাইড-শেয়ারিং চালকদের স্বস্তি

মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার ওপর নতুন করের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সাধারণ ব্যবহারকারী, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং বিশেষ করে রাইড-শেয়ারিং (Ride-sharing) সেবার সঙ্গে জড়িত চালকদের মনে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, এমনিতেই দেশে মোটরসাইকেল নিবন্ধন ফি (Motorcycle registration fee), সড়ক কর (Road tax) এবং জ্বালানি তেলের (Fuel price) বাড়তি দামের কারণে যাতায়াত খরচ অনেক বেশি। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে ট্যাক্স বসলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের জীবিকার ওপর বড় আঘাত আসত। ফলে সরকারের এই সিদ্ধান্তে তারা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছেন।

আরও পড়ুন:

রাজস্ব আয়ের চেয়ে জনস্বার্থকে বড় অগ্রাধিকার

এনবিআরের হিসাব অনুযায়ী, দেশের এই বিশাল দুটি খাত থেকে প্রতি বছর কয়েক হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব (Revenue) আদায় করা সম্ভব ছিল। তবে বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজস্ব আয়ের চেয়ে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ও জনস্বার্থের বিষয়টিকে সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

তবে সাধারণ বাইকাররা ছাড় পেলেও, ১৫০ সিসি (150cc bike) কিংবা তার চেয়ে বেশি ক্ষমতার উচ্চশক্তির মোটরসাইকেল মালিকদের জন্য করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা টিন (TIN Certificate) নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা আগের মতোই বহাল থাকবে।

এক নজরে দেশের মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা খাত:

নিবন্ধিত মোটরসাইকেল: সরকারি সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা প্রায় ৪৯ লাখ।

চলমান অটোরিকশা: সঠিক সরকারি পরিসংখ্যান না থাকলেও ধারণা করা হয় সারা দেশে প্রায় ৫০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে।

শিল্পে প্রভাব: নতুন কর আরোপ করা হলে ক্রমবর্ধমান দেশীয় মোটরসাইকেল বাজার, উৎপাদন ও নতুন বিনিয়োগে (Domestic investment) বড় ধরণের নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল।

সরকারের এই দূরদর্শী ও ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ফলে সাধারণ বাইক ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তারাও সাধুবাদ জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন:

এসআর