তীব্র জ্বালানি সংকটে ভুগছে দেশ। সংকট মোকাবিলা ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।
সিপিডি বলছে, সরকারের উচ্চকর কাঠামোই এই খাতে বড় বাধা। সৌরপ্রযুক্তির ওপর বর্তমান শুল্ক ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২৮ দশমিক ৭ শতাংশ। সৌরবাতির যন্ত্রাংশ, সোলার ওয়াটার হিটার সিস্টেমের মতো উপাদানের ওপর এই করের বোঝা আরও বেশি, যা প্রায় ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। এ উচ্চকরের মধ্যে মূল্য সংযোজন কর ১৫ শতাংশ, অগ্রিম আয়কর ৫ শতাংশ এবং অগ্রিম কর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
সিপিডি’র গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বিভিন্ন রকমের নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে এ মুহূর্তে কোন ধরনের কাস্টমস ডিউটি, সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি, ভ্যাট, অ্যাডভান্স ইনকাম ট্যাক্স, রেগুলেটরি ডিউটি, অ্যাডভান্স ট্যাক্স এবং টোটাল ট্যাক্স ইনসিডেন্স, সেটা যোগ করে যেটা হয়, সেটা হচ্ছে টিটিআই এই মুহূর্তে যা আরোপিত আছে।’
অপরদিকে সব ধরনের জ্বালানির মধ্যে এলএনজি আমদানিতে করের বোঝা সবচেয়ে কম, যার মোট করের প্রভাব মাত্র ৯ দশমিক ৫ শতাংশ। এলএনজি আমদানিতে কোনো মূল্য সংযোজন কর নেই এবং অগ্রিম আয়কর মাত্র ২ শতাংশ। সিপিডি বলছে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে রাজস্ব বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। দেশি- বিদেশি বিভিন্ন গোষ্ঠীর চাপে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সিপিডি বলছে, বৈষম্য থেকে বেরিয়ে এসে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির পথে যাত্রার এখনই সময়।
সিপিডি’র গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘বাংলাদেশে এখন যে জায়গায় আমরা দাঁড়িয়ে আছি, সেই শব্দটি এখানে বলা হয়েছে টাইটেলের ভেতরে। সেটা হলো রাজস্ব বৈষম্য। আমরা কোথায় সহায়ক রাজস্ব নিতে নেব তা না, আমরা আসলে পুরো উল্টো পথে রয়েছি। আমরা রাজস্ব কাঠামোর ক্ষেত্রে একটা উল্টো উল্টো পথে বা উল্টো রথে উঠে আছি। অর্থাৎ কৃত্রিমভাবে আমরা জীবাশ্ম জ্বালানিকে প্রতিযোগিতামূলক দেখছি এবং সেই কারণে আমরা বলছি যে এটা অনেক প্রতিযোগিতামূলক। আবার কৃত্রিমভাবে কাউকে আমরা অপ্রতিযোগিতামূলক বানিয়ে রেখেছি। যেমন নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে আমরা কৃত্রিমভাবে অপ্রতিযোগিতামূলক বানিয়ে রেখেছি।’
সিপিডি বলছে, কুইক রেন্টাল আইনের অধীনে করা চুক্তিতে চলমান জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভর্তুকির পরিমাণও অনেক বেশি। এমনকি এ আইনের অধীনে তৈরি করা নবায়নযোগ্য জ্বালানির দামও অনেক বেশি। উন্নয়ন বাজেটের ৯৫ শতাংশই পায় জীবাশ্ম জ্বালানি, নবায়নযোগ্য খাতে বরাদ্দ ৫ শতাংশের কম।





