আজ (মঙ্গলবার, ১৬ জুন) দুপুরে রাজশাহীর শাহমখদুম থানাধীন নওদাপাড়া আমচত্বর মোড় থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটককৃত আসামির নাম আহসান হাবীব (৪০), তিনি পবা থানার ঘোড়াহাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। এ চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিরা বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
রাজশাহী গোদাগাড়ী থানার কাশিমপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মেরাজ আলী (২১) সরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার জন্য ফেব্রুয়ারিতে অনলাইনে আবেদন করেন এবং ভাষা পরীক্ষা, স্কিল টেস্ট ও মেডিকেল সম্পন্ন করে সফলভাবে রোস্টারভুক্ত হন।
এ তথ্য কৌশলে সংগ্রহ করে প্রতারক চক্রের মূলহোতা আহসান হাবীব ও তার সহযোগীরা। গত ১৪ জুন আহসান হাবীব ভুক্তভোগী মেরাজের বাড়িতে গিয়ে কোরিয়ান একটি কোম্পানির ভুয়া কাগজ দেখিয়ে দাবি করে যে, ১৬ লাখ টাকা না দিলে তার ভিসা বাতিল করে দেয়া হবে।
ভিসা প্রাপ্তির শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে তারা অগ্রিম ১ লাখ টাকা দাবি করে।
এতে মেরাজ আলীর সন্দেহ হলে তিনি গত ১৫ জুন ঢাকার ইস্কাটন গার্ডেনে অবস্থিত বোয়েসেল কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
আরও পড়ুন:
বোয়েসেল কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে মেরাজকে আশ্বস্ত করে যে, কোরিয়ায় এভাবে চুক্তির মাধ্যমে কর্মী যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই এবং এটি একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের কাজ। একই সঙ্গে বোয়েসেল কর্তৃপক্ষ মেরাজকে কোনো প্রকার অর্থ লেনদেন না করার পরামর্শ দেয় এবং প্রতারকদের আইনের আওতায় আনতে একটি ফাঁদ প্রস্তুত করে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, আজ রাজশাহীর নওদাপাড়া আমচত্বর মোড়ের ডাচ-বাংলা এটিএম বুথের সামনে অভিযুক্ত আহসান হাবীব অগ্রিম টাকা নিতে আসলে বোয়েসেলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (বৈদেশিক নিয়োগ) ও সিনিয়র সহকারী সচিব নু-এমং মারমা মং এবং ব্যবস্থাপক (বৈদেশিক নিয়োগ-২) রিফাত তাহনীম রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সহায়তায় তাকে আটক করেন।
উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি আহসান হাবীব কোরিয়াগামী কর্মীদের তথ্য চুরি করে অবৈধভাবে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টার কথা স্বীকার করে।
পরে আটককৃত আসামিকে বোয়েসেল কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসনের সহায়তায় রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানায় সোপর্দ করা হয় এবং ভুক্তভোগী মেরাজ আলী বাদী হয়ে একটি এজাহার দায়ের করেন।
এ বিষয়ে বোয়েসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি নিয়মে বোয়েসেলের মাধ্যমে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মী পাঠানো হয়। এখানে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা এজেন্টের মাধ্যমে ভিসা পাওয়ার বা বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই। সেই সঙ্গে এ ধরনের প্রতারক চক্রের হাত থেকে রক্ষা পেতে সকলকে সচেতন থাকার এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে বোয়েসেল কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।




