কুচি কুচি করে কাটার পরে বলেন—আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ চালাই: জামায়াত আমির

সংসদে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান
সংসদে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান | ছবি: এখন টিভি
0

জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে সরকারি দলের এমপিদের সমালোচনার জবাব দিয়েছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘একটা টেনডেনসি (প্রবণতা) আমি লক্ষ করেছি, প্রায় সকল বক্তা কুচি কুচি করে কাটার পরে বলেন, এগুলো ছাড়েন। আসেন ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা দেশটা চালাই। ওই কুচি কুচি করার যন্ত্রটা আসুন আমরা ফেলে দিই। আমরা একটা বিউটিফুল, ওয়ানডারফুল কম্বিনেশন নিয়ে চলি।’

আজ (সোমবার, ২৯ জুন) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে সরকারি ও বিরোধীদলের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান এবং সহযোগিতার মানসিকতা ধরে রাখার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।

সংসদ সম্পর্কে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সীমাহীন ত্যাগের মধ্য দিয়ে আজকের এ পার্লামেন্ট গঠিত হয়েছে। এ পার্লামেন্ট মজলুমের পার্লামেন্ট। সংগত কারণেই আশা করি যে এই পার্লামেন্ট এমন কোনো আচরণ করবে না, যেটা মজলুম দেশবাসীকে আহত করে। এই পার্লামেন্ট দায়িত্বশীল আচরণ করবে, জাতিকে স্বপ্ন দেখাবে, জাতিকে জাগিয়ে তুলবে, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করবে ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা করবে।’

সংসদের সরকারি ও বিরোধীদলের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই সংসদে আজকে আমরা যারা আছি, একসময় আমরা একদিকেই বসতাম। বিশেষ করে ২০০১ থেকে ২০০৬ (সাল), অল্প দু-একজন বা দু-একটি দল ছাড়া। এখন আমরা দুই অংশে সংযুক্ত—আমি বিভক্ত বলছি না। কারণ, কোনো যানবাহনই এক চাকায় চলে না। যানবাহন চালাতে হলে অন্তত দুইটা টায়ার লাগে। এই সংসদেরও দুইটা টায়ার। একটা সরকারি দল, আরেকটা বিরোধীদল। যেকোনো একটা টায়ার যদি অকেজো হয়ে যায়, পুরো যানবাহন অকেজো। সুতরাং আমরা সতর্ক থাকব, দুটি টায়ার যাতে সচল থাকে। এই টায়ারে আপনি পিন লাগাবেন, পেরেক মারবেন, তাহলে কিন্তু ওই টায়ারটা ফুটো হয়ে যাবে। ফুটো হয়ে গেলে ওই অবশিষ্ট টায়ারও চলবে না।’

আরও পড়ুন:

সংসদের অতীত রীতির সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা বেশিরভাগই নবীন, আর নবীনদের অধিকার থাকে প্রবীণদের কাছ থেকে শেখার। কিন্তু আমরা মন্দটা শিখতে চাই না। আমরা শিখতে চাই ভালোটা। অতীতে এই সংসদে দাঁড়িয়ে ব্যক্তিকে তোষামোদ করার জন্য গান হয়েছে, কবিতা হয়েছে, স্বপ্নবিলাস হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে এই সংসদে এটা হওয়া উচিত নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা তোষামদের জায়গা নয়, এটা দায়িত্ব পালনের জায়গা। দায়িত্ব বুঝে নেয়ার জায়গা। অনেক সময় ব্যক্তিকে খুশি করতে গিয়ে অন্যকে আমরা বেশি করে আঘাত করে ফেলি।’

জামায়াত আমির সংসদে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, জেনারেল এম এ জি ওসমানী, আ স ম আবদুর রবসহ সব শহিদ ও জীবিত মুক্তিযোদ্ধার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি কষ্টে ভোগা দল। এক-দুই করে ১১ জনকে আমাদের বুক থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে।’ এসময় পাশে বসা দলটির আরেক নেতা এ টি এম আজহারকে দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘১২ নম্বর জন এখানে জীবিত আছেন।’

এসএইচ