সরকারি প্রতিনিধি, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সহযোগী এবং চক্ষু স্বাস্থ্য খাতের অন্যান্য অংশীজনেরা শীর্ষ সম্মেলনের জন্য বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা করেন। অংশীজনেরা প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা এড়ানোর জন্য এ খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং ন্যায়সঙ্গত চক্ষুসেবা প্রসারের আহ্বান জানান।
আলোচনায় অংশ নেন ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর দ্য প্রিভেনশন অব ব্লাইন্ডনেসের (আইএপিবি) প্রধান নির্বাহী পিটার হল্যান্ড, আইএপিবির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের প্রধান ইয়ুদ্ধা ধোজ সাপকোটা, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক ডা. এএসএমএম কাদির, অপথালমোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওএসবি) প্রেসিডেন্ট ডা. তৌহিদুর রহমান ও মহাসচিব অধ্যাপক ডা. জিন্নু রাইন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আইএনজিও ফোরাম ইন আই হেলথ, সরকারি সংস্থা, পেশাদার প্রতিষ্ঠান এবং অংশীদার চক্ষু হাসপাতালের প্রতিনিধিরা। আইএনজিও ফোরামের পক্ষে অরবিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ সভা পরিচালনা করেন।
সভায় বক্তৃতাকালে পিটার হল্যান্ড উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মতো একটি দেশে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে চোখের যত্নে ১২৯ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলে পরবর্তীতে এ থেকে বছরে অর্থনৈতিক উপকার আসবে আনুমানিক ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের।
বিশ্বব্যাপী অপ্রতুল চক্ষুসেবার বোঝা তুলে ধরে তিনি বলেন, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে প্রায় ১০০ কোটি মানুষ প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব ও দৃষ্টি সমস্যা নিয়ে বাস করছে। তিনি বলেন, চক্ষুস্বাস্থ্যের উন্নতি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য অপরিহার্য, কারণ ভালো দৃষ্টিশক্তি শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও সামগ্রিক কল্যাণে অবদান রাখে।
হল্যান্ড চলতি বছরের ২ নভেম্বর অ্যান্টিগা ও বারবুডায় অনুষ্ঠেয় গ্লোবাল সামিট ফর আই হেলথের কো-হোস্ট হওয়ার জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানাতে দুই দিনের সফরে ঢাকা এসেছিলেন।
বৈঠকে তিনি জানান, সোমবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার পাশাপাশি সম্মেলনে বাংলাদেশের কো-হোস্ট হওয়ার ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন এবং তিনি নিজেও এ আয়োজনে অংশ নিতে রাজী হয়েছেন।
ইয়ুদ্ধা ধোজ সাপকোটা বলেন, শীর্ষ সম্মেলনটি চক্ষুস্বাস্থ্যের উন্নতির লক্ষ্যে দেশগুলোর উচ্চাভিলাষী জাতীয় প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করার একটি বিশ্বব্যাপী প্ল্যাটফর্ম হবে। তিনি বলেন, চক্ষুসেবা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি প্রতিরোধযোগ্য অন্ধত্ব এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধকতা কমানোর করার জন্য দেশগুলো জোরালো কার্যক্রম গ্রহণ, এ খাতে অর্থ বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণের অঙ্গীকার করবে।
আইএনজিও এবং চক্ষুস্বাস্থ্য খাতের অংশীজনদের নিয়ে যৌথভাবে তৈরি বাংলাদেশের প্রস্তাবিত খসড়া অঙ্গীকার সভায় তুলে ধরেন ডা. মুনির আহমেদ। তিনি জনকেন্দ্রিক চক্ষুসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর জোর দেন যেখানে রিফ্যাক্টিভ এরর, প্রেসবায়োপিয়া, ছানি, ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, গ্লুকোমা ও শিশু চক্ষুরোগের চিকিৎসায় ন্যায়সঙ্গত সুযোগ নিশ্চিত হবে।
ডা. মুনির বলেন, বাংলাদেশের অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে থাকা উচিত ২০৩০ সালের মধ্যে ২ কোটি মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় চক্ষুসেবা পৌঁছে দেওয়া।
জাতিসংঘ উন্নয়ন তহবিল, ফ্রেড হোলোস ফাউন্ডেশন, হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল, সাইটসেভারস, সিবিএম গ্লোবাল, ইস্পাহানি ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, ডা. কে জামান বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল, অধ্যাপক মতিন বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল, ডিপ আই কেয়ার এবং এসিলর বাংলাদেশের প্রতিনিধিরাও সভায় যোগ দেন।





