সরকারি নির্ধারিত মূল্যে মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার, ক্ষুব্ধ ক্রেতারা

এলপিজি সিলিন্ডার
এলপিজি সিলিন্ডার | ছবি: এখন টিভি
0

কয়েক দফায় দাম বাড়ার পর অবশেষে এলপি গ্যাসের দাম কমিয়েছে সরকার। কিন্তু বিইআরসি নির্ধারিত দামে বাজারে মিলছে না রান্নার এই জ্বালানি। উল্টো বাড়তি দাম দিতে গিয়ে ক্ষুব্ধ সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীরাও। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায়ে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে বিইআরসির বিরুদ্ধে।

মতিন মিয়া। তেজগাঁও কলোনি বাজারের ফুটপাতে চা বিক্রি করেন দীর্ঘদিন ধরে। যে কারণে প্রতিদিনই এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে হয় তাকে। জানালেন, সরকার দাম বাড়ালে সাথে সাথে প্রভাব পড়ে। কিন্তু দাম কমানোর প্রতিফলন মেলে না।

গত ২ জুলাই ৩৫৭ টাকা কমিয়ে এলপিজির ১২ কেজি সিলিন্ডারে দাম ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বাজারে ১৮শ' টাকার নিচে মিলছে না সিলিন্ডার। একই অভিযোগ অন্য দোকানিদেরও।

চা বিক্রেতা বলেন, ‘গতকাল ১৯০০ টাকা দিয়ে কিনেছি। দামাদামি করলেও ১৮০০ টাকার নীচে পাওয়া যায় না। আরও ৫০ টাকা দাবি করে। আমরা বলি সরকার কমিয়েছে ওরা বলে কমায়নি।’

এ নিয়ে ক্ষোভ জানালেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। তিনি বলেন, সরকারকে সাধুবাদ জানাই আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার সঙ্গে সঙ্গে দেশে দাম কমিয়েছে। যদিও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে কমেনি। আশা করছি সরকার পূর্বের দামে গ্যাস সরবরাহ করা হবে। তবে এখনো অনেক জায়গায় নির্ধারিত দামে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। আমরা মনে করি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এ বিষয়ে কঠোর তদারকি করা দরকার।’

এদিকে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের দাবি, নির্ধারিত দামেই বিক্রি করছেন তারা। এক ব্যবসায়ী বলেন, আমরা এখন সরকারি নির্ধারিত দামেই পাচ্ছি এবং সে দামেই বিক্রি করছি।’

তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশে এলপিজির চাহিদার প্রায় ৯৮ শতাংশই মেটানো হয় বেসরকারি আমদানিকারকদের মাধ্যমে। আর এই সুযোগেই একটি চক্র বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল্য কারসাজির সাথে জড়িতদের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে বিইআরসির বিরুদ্ধে।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. সামসুল আলম বলেন, ‘রেগুলেটরি কমিশনের সিদ্ধান্ত বা আদেশ না মানা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তার আদেশ এলপিজি অপারেটররা মানছে না। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো একটা ব্যবস্থা নেয়নি। তাহলে সে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণে অক্ষম এবং অযোগ্য। বিআরসি আইনের ১১ ধারা অনুযায়ী অক্ষমতার কারণে সংস্থার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির।’

সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু দাম কমানোর ঘোষণা নয়, বরং নির্ধারিত দামে পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কঠোর বাজার তদারকি প্রয়োজন।

এএইচ