এর আগে, বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর করা হয় নি। ৮ জুলাই প্রস্তুত করা ফলাফল ওয়েব পোর্টালে আপলোড করতে প্রয়োজনীয় লিংক তৈরির জন্য অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স মো. মেহতাব কায়েসকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। ফলাফল যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকাশের আগে তা ওয়েব পোর্টালে আপলোড না করার জন্য নির্দেশনা থাকলেও ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার ফলাফল ওই লিংকগুলোয় আপলোড করা হয়। এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন:
ফলাফল স্থগিত হওয়ার মূল কারণ
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE) সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুলাই প্রস্তুতকৃত ফলাফল ওয়েব পোর্টালে আপলোড করার জন্য প্রয়োজনীয় লিংক তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অধিদপ্তরের সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার মো. মেহতাব কায়েসকে। নিয়মানুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে ফলাফল লাইভ বা আপলোড করার ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু নির্দেশনা অমান্য করে ৯ জুলাই (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় ঢাকা বিভাগের ৯টি জেলার ফলাফল ওই লিংকে আপলোড করে দেওয়া হয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে ফলাফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়।
কতজন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে? (Scholarship Quota)
এ বছর প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় (Primary Britti Porikkha) মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি। এর মধ্যে:
- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (Government Primary School) শিক্ষার্থী: সাড়ে ৫ লাখ।
- বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেন (Kindergarten) স্কুলের শিক্ষার্থী: ৯০ হাজার।
চলতি বছর সর্বমোট ৮২,৫০০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। যার কোটা বণ্টন করা হয়েছে এভাবে— ৮০ শতাংশ সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীরা এবং বাকি ২০ শতাংশ বেসরকারি বা কিন্ডারগার্টেনের প্রার্থীরা পাবে। মেধার ভিত্তিতে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ‘ট্যালেন্টপুল’ (Talentpool Scholarship) ও ‘সাধারণ গ্রেড’ (General Grade Scholarship)—এই দুই ভাগে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
যেভাবে জানবেন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল (How to Check Primary Scholarship Result)
ফলাফল নতুন তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশের পর শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই অনলাইন (Online Result) এবং মোবাইল এসএমএসের (SMS Result) মাধ্যমে তা সংগ্রহ করতে পারবে। নিচে রেজাল্ট দেখার দুটি সহজ উপায় দেওয়া হলো:
১. মোবাইল ফোনের মাধ্যমে (Check Result via SMS)
যেকোনো মোবাইল অপারেটর (টেলিটক, গ্রামীণফোন, রবি, এয়ারটেল বা বাংলালিংক) থেকে খুব সহজেই একটি এসএমএস পাঠিয়ে রেজাল্ট জানা যাবে।
- আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখুন: DPE <স্পেস> রোল নম্বর এবং পাঠিয়ে দিন ১৬২২২ নম্বরে।
- উদাহরণ: শিক্ষার্থীর রোল নম্বর যদি ১২৩৪৫৬ হয়, তবে টাইপ করুন: DPE 123456 এবং সেন্ট করুন 16222 নম্বরে। ফিরতি মেসেজেই শিক্ষার্থীর নাম ও ফলাফল চলে আসবে।
২. ওয়েবসাইটের মাধ্যমে (Check Result Online via IPEMIS Website)
কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে ইন্টারনেট ব্যবহার করে মার্কশিটসহ বিস্তারিত ফলাফল (Primary Scholarship Result Marksheet) দেখতে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
- প্রথমে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিশিয়াল আইপেমিস ওয়েবসাইটে (ipemis.dpe.gov.bd) প্রবেশ করুন।
- হোমপেজে থাকা ‘প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা’ (Primary Scholarship Exam) অপশনটি নির্বাচন করুন।
- এরপর শিক্ষার্থীর রোল নম্বর (Roll Number), নিজ জেলা (District) এবং উপজেলার (Upazila) নাম সঠিকভাবে সিলেক্ট করুন।
- সবশেষে ‘সাবমিট’ বা ‘ফল দেখুন’ (View Result) বাটনে ক্লিক করলেই স্ক্রিনে মার্কশিটসহ ফলাফল চলে আসবে।
কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফলাফল প্রকাশের নতুন তারিখ ও সময় খুব দ্রুতই আইপেমিস পোর্টাল ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে। নিয়মিত আপডেট পেতে চোখ রাখুন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে।




