অন্য অপারেটরদের বাজারে প্রতিযোগিতার মধ্যে রাখতে টেলিটককে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রয়োজন মন্তব্য করে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও সেবার মান বাড়াতে অর্থায়নের চেষ্টা চলছে।
মন্ত্রী জানান, দেশে টেলিটক, গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংক—এই চারটি মোবাইল অপারেটর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। টেলিটককে উন্নত করতে আরও টাওয়ার স্থাপন প্রয়োজন জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য সরকারের অর্থায়ন দরকার। বিদেশি উৎস থেকেও অর্থায়ন আনার চেষ্টা চলছে।
টেলিটক বাজারে না থাকলে বেসরকারি অপারেটরগুলো ইচ্ছামতো সেবার মূল্য বাড়াতে পারে মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, ‘টেলিটককে আমাদের বাজারে রাখতেই হবে। সরকারের কাছে রাখতেই হবে।’
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নাদিয়া পাঠান পাপনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সাত বা ১৫ দিনের প্যাকেজের মেয়াদ শেষ হলে অব্যবহৃত ডেটা নিয়ে নেয়ার বিষয়টি সরকারও উদ্বেগের সঙ্গে দেখছে। এ নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ও মোবাইল অপারেটরদের সঙ্গে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অপারেটররা তাদের ব্যবসায়িক নীতির কথা বলে বিভিন্ন যুক্তি দেয়।
কলড্রপ নিয়েও অপারেটরদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় তাদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখা হবে।
যশোর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুক্তার আলীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন প্রকল্পের মাধ্যমে সারা দেশে ১ লাখ ৯ হাজার ৪টি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার কার্যক্রম চলছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি ক্লিনিক, ভূমি অফিস ও জেলা আদালতসহ ৫৭ হাজার প্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসীদের সহায়তা এবং রেমিট্যান্স গ্রহণ সহজ করতে ডিজিটাল সেন্টারে প্রবাসী হেল্প ডেস্ক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রাশেদুল ইসলাম রাশেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, যেসব এলাকায় নেটওয়ার্ক পাওয়া যাচ্ছে না, সেগুলোর সুনির্দিষ্ট তথ্য দিলে টেলিটকসহ সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হাসান বলেন, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটের সীমান্তবর্তী এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক অত্যন্ত দুর্বল। বাংলাদেশের নেটওয়ার্ক না পাওয়ায় অনেকে প্রতিবেশী দেশের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন। মন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে অপারেটরদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় টাওয়ার স্থাপনের চেষ্টা করা হবে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিকুন্নাহার অভিযোগ করেন, জাতীয় টেলিযোগাযোগ নীতিমালা প্রণয়ন বিটিআরসির নিয়মিত কাজ হলেও সেটিকে ‘গবেষণা’ হিসেবে দেখিয়ে কমিশনের কর্মকর্তাদের আলাদা সম্মানি দেয়া হয়েছে। জবাবে মন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যের দেয়া অর্থের অঙ্ক তার জানা নেই। অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হবে এবং পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
সম্পূরক প্রশ্নে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, তার এলাকার অনেক ডাকঘর মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। কয়েকটি ডাকঘর বখাটে ও মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে। ডাকঘরগুলো সংস্কার করা সম্ভব না হলে বিলুপ্ত করার দাবি জানান তিনি। জবাবে মন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ৯ হাজারের বেশি ডাকঘর রয়েছে এবং অধিকাংশই জরাজীর্ণ। এতগুলো ডাকঘর একসঙ্গে সংস্কার করা সম্ভব না হওয়ায় পর্যায়ক্রমে কাজ চলছে।
পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম তরুণদের মধ্যে পর্নোগ্রাফির আসক্তি ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চান। জবাবে মন্ত্রী মাদকাসক্তির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তরুণদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফ্রিল্যান্সিং ও ইন্টারনেটভিত্তিক কাজে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। উপজেলা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কক্ষ স্থাপন করে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কিছু উপজেলায় প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে; বাকিগুলোতেও পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে। তবে পর্নোগ্রাফির ওয়েবসাইট বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপের কথা মন্ত্রী তার উত্তরে জানাননি।
নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলুর প্রশ্নের জবাবে আইসিটি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, দেশব্যাপী ৫ জি সম্প্রসারণের জন্য ইতোমধ্যে অপারেটরদের প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৫ জি সম্প্রসারণের জন্য ২.৩ ও ২.৬ গিগাহার্জ ব্যান্ড বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এছাড়া, ২০২৭ সালে ৩.৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডে নতুন তরঙ্গ অবমুক্ত করা হবে।
চাঁদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নানের প্রশ্নের জবাবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর কর্তৃক সারা দেশে আগামী ৫ বছরের মধ্যে একহাজার জনকে প্রশিক্ষণ দেয়ার মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা হবে। এছাড়া ২ লাখ ফ্রিল্যান্সারকে আইডি কার্ড দেয়া হবে।





