রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রস্তুত ইসি; প্রার্থী বাছাইয়ে কৌশলী হওয়ার পরামর্শ

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও ইসি ভবন
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও ইসি ভবন | ছবি : এখন টিভি
0

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল নিয়ে ইসির জরুরি বৈঠকে প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, অক্টোবরের ২৪ তারিখের মধ্য নির্বাচন সম্পন্নের কথা থাকলেও সরকার চাইলে এর আগেই প্রস্তুত থাকবে ইসি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি নয়; ভবিষ্যতে সরকারের জন্য যাতে ট্র্যাজেডি না হয় এজন্য ভালো ইমেজধারী ব্যক্তিকে বাছাই করা জরুরি। প্রার্থী বাছাইয়ে বহির্বিশ্বের কোনো প্রকার চাপ থাকলে সরকারকে হতে হবে কৌশলী।

দেশের সদ্য বিদায়ী ২২ তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব ভার মেজর হাফিজ উদ্দিনের উপর। একইসাথে নতুনভাবে আলোচনায় পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে। সরকারের ভাবনায়, সেপ্টেম্বরের নিয়মিত সংসদ অধিবেশনের মধ্য দিয়ে এটি চূড়ান্ত হবে।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ায় পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্য নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তফসিল চূড়ান্তের আগে স্পিকারের সাথে দ্রুতই বৈঠক করবে ইসি। বৈঠকের আগে কমিশনের প্রস্তুতি ভালোভাবে গুছাতে গত রোববার জরুরি বৈঠক ডাকেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, ২৪ অক্টোবরের মধ্য নির্বাচন সম্পন্নের কথা থাকলেও সরকার চাইলে এর আগেই প্রস্তুত থাকবেন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘প্রার্থী যদি ঠিক থাকে আরও দ্রুত করতে চাইলে দ্রুত করবো। কমিশনটার বিষয়টি সবই নির্ভর করতেছে সরকারের এটিটিউড। আইনই বলে দিচ্ছে স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা। কনসাল্টেশন। কমিশন কনসাল্টেশন।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তড়িঘড়ি নয়; ভবিষ্যতে সরকারের জন্য যাতে ট্র্যাজেডি না হয় এজন্য ভালো ইমেজ ধারী ব্যক্তিকে বাছাই করা জরুরি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেল, একটা প্রতিষ্ঠান যেন শেষ আশার আলো হিসেবে থাকে। সেভাবে যদি আমরা করতে না পারি তাহলে এটা কোনো মানে নাই। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতাটাকে আরও অর্থবহ করার দরকার বলে আমি মনে করি।’

আরও পড়ুন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন বিএনপির জন্য অনেক সময়ই ট্র্যাজেডি হয়েছে। এজন্য বিএনপিকে খেয়াল রাখতে হবে, যেন ভবিষ্যতে এমন কোনো রাষ্ট্রপতি না হয় যিনি বিএনপির জন্য ট্র্যাজেডি হয়ে দাঁড়ান।’

রাষ্ট্রপতি নিয়োগের ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বের চাপের শঙ্কা রয়েছে। তবে এবিষয়ে সরকারকে হতে হবে কৌশলী। বয়স ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়ার তাগিদ দেন তারা।

তিনি বলেন, ‘যার দেশে গ্রহণযোগ্যতা আছে, আন্তর্জাতিকভাবেও তিনি সম্মানিত হবেন, পাশাপাশি বিএনপির যে ৩১ দফা, বিএনপির যে জাতীয়তাবাদী রাজনীতি তার প্রতি তার আস্থা থাকতে হবে। না হলে প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির কাজের মধ্যে সমন্বয় থাকবে না।’

ড. সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘সেই চাপ তো ছিলো বিগত মন্ত্রিসভার সময়। এখন রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রেও এটি থাকতে পারে। একেবারেই গুঞ্জনকে গুঞ্জন বলে উড়িয়ে দেওয়াও যাচ্ছে না আর কি। আরেকটা হলো যে রাজনৈতিকভাবে তারেক জিয়া একটা চাপের মধ্যে পড়তে পারেন।’

এফএস