মেট্রো যাত্রীদের জন্য কোন কোন স্টেশনে এই সুবিধা মিলবে, কীভাবে সাইকেল রাইড আনলক করতে হবে এবং ভাড়ার পরিমাণ কত হবে তার বিস্তারিত নিচে তুলে ধরা হলো।
যেসব মেট্রো স্টেশনে চালু হচ্ছে জোবাইক (JoBike Metro Stations List)
প্রথম ধাপে মেট্রোরেল লাইন-৬ (MRT Line 6)-এর ৩টি নির্বাচিত স্টেশনে জোবাইকের সেবা শুরু হবে:
- উত্তরা উত্তর স্টেশন (Uttara North Metro Station)
- উত্তরা সেন্টার স্টেশন (Uttara Center Metro Station)
- উত্তরা দক্ষিণ স্টেশন (Uttara South Metro Station)
পাইলট প্রকল্পের শুরুতে এই স্টেশনগুলোতে ১৫০ থেকে ৩০০টি স্মার্ট প্যাডেল বাইসাইকেল (Smart Pedal Bicycle) রাখা হবে। ৬ মাসের এই পরীক্ষা সফল হলে পর্যায়ক্রমে লাইন-৬-এর সবকটি স্টেশনে জোবাইক হাব স্থাপন ও সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।
আরও পড়ুন:
জোবাইকের ভাড়া ও চার্জ নির্ধারণ (JoBike Rental Fare and Unlock Fee)
মেট্রোরেল থেকে নেমে অল্প দূরত্বের যাতায়াতে রিকশা ভাড়ার তুলনায় জোবাইকের ভাড়া রাখা হয়েছে বেশ সাশ্রয়ী:
- আনলকিং ফি (Unlocking Fee): প্রতি রাইড শুরুর জন্য ২ টাকা।
- প্রতি মিনিটের ভাড়া (Per Minute Rate): ১ টাকা।
ভাড়ার হিসাব (Fare Example):
- ১০ মিনিটের রাইড = ১২ টাকা (২ টাকা আনলক ফি + ১০ টাকা সময়)
- ২০ মিনিটের রাইড = ২২ টাকা (২ টাকা আনলক ফি + ২০ টাকা সময়)
কীভাবে ব্যবহার করবেন জোবাইক সাইকেল? (How to Use JoBike App)
১. প্রথমে স্মার্টফোনে JoBike App ডাউনলোড ও ইন্সটল করুন।
২. মেট্রো স্টেশনের নির্ধারিত জোবাইক পার্কিং হাবে (JoBike Parking Hub) যান।
৩. অ্যাপের কিউআর কোড স্ক্যানার দিয়ে বাইসাইকেলের QR Code Scan করে আনলক করুন।
৪. গন্তব্যে পৌঁছানোর পর সুবিধাজনক বা নির্দিষ্ট জোবাইক পার্কিং পয়েন্টে বাইসাইকেল রেখে রাইড শেষ (End Ride) করুন।
আরও পড়ুন:
উপকৃত হবেন যারা (Who Will Benefit from JoBike)
মেট্রোরেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকাগুলোর আবাসিক বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অত্যন্ত সুবিধাজনক হবে:
- আবাসিক এলাকা: উত্তরা রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্ট (RUAP) ও উত্তরা রূপায়ণ সিটির বাসিন্দাগণ।
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (WUB) এবং বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির (BUFT) শিক্ষার্থীরা।
- কর্মজীবী: মেট্রোরেল ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রতিদিনের নিয়মিত যাত্রীরা।
জোবাইকের নতুন পথচলা ও চুক্তি (JoBike & DMTCL Agreement)
ডিএমটিসিএলের উন্মুক্ত দরপত্রে অংশ নিয়ে কার্যাদেশ পাওয়ার পর গত ৬ আগস্ট দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ডিএমটিসিএলের জেনারেল ম্যানেজার নাসির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ও জোবাইকের সিইও মেহেদী রেজাসহ অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
২০১৮ সালে কক্সবাজার থেকে যাত্রা শুরু করা দেশের প্রথম পরিবেশবান্ধব স্মার্ট রাইড শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম জোবাইক মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে সম্প্রতি নতুন উদ্যমে রাজধানী ঢাকায় ফিরলো।
প্রথম ধাপে যেসব মেট্রো স্টেশনে চালু হচ্ছে জোবাইক, ভাড়া কত?
একনজরে মেট্রোরেল স্টেশনে জোবাইকের পাইলট প্রকল্প, নির্ধারিত ভেন্যু, ভাড়ার তালিকা, ব্যবহারের নিয়ম ও সুবিধাভোগীদের বিস্তারিত
প্রথম ধাপের স্টেশনসমূহ
• উত্তরা উত্তর (Uttara North), উত্তরা সেন্টার (Uttara Center) এবং উত্তরা দক্ষিণ (Uttara South)।
• পাইলট প্রকল্প: ৬ মাসের জন্য ১৫০ থেকে ৩০০টি স্মার্ট প্যাডেল বাইসাইকেল দিয়ে কার্যক্রম শুরু।
ভাড়া ও রাইড চার্জ
• আনলকিং ফি: প্রতি রাইড শুরুতে ২ টাকা।
• প্রতি মিনিটের ভাড়া: ১ টাকা।
• হিসাব: ১০ মিনিটের রাইডে ১২ টাকা এবং ২০ মিনিটের রাইডে ২২ টাকা।
ব্যবহারের সহজ নিয়ম
• নির্ধারিত জোবাইক হাব (JoBike Hub) থেকে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বাইসাইকেলের QR Code Scan করে আনলক করতে হবে।
• রাইড শেষে নির্দিষ্ট গন্তব্যের পার্কিং পয়েন্টে রেখে লক সম্পন্ন করতে হবে।
সরাসরি উপকৃত হবেন যারা
• উত্তরা রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্ট (RUAP) ও রূপায়ণ সিটির বাসিন্দা।
• শান্ত-মারিয়াম, বিইউএফটি (BUFT) ও ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির (WUB) শিক্ষার্থী এবং মেট্রোরেল ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারী।
বিষয় ও ক্যাটাগরি
জোবাইক সেবার বিস্তারিত তথ্যাবলী
(Selected Metro Stations)
(Fare & Ride Charges)
(How to Use JoBike App)
(Direct Beneficiaries)
ঢাকা মেট্রোরেলের সঙ্গে অ্যাপভিত্তিক বাইসাইকেল শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ‘জোবাইক’ (JoBike)-এর নতুন চুক্তি এবং ‘১ টাকা মিনিটে যাতায়াত’ নিয়ে বহুল জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর-FAQ
প্রশ্ন: ঢাকা মেট্রোরেল স্টেশনে জোবাইক (JoBike) সেবা কী?
উত্তর: এটি মেট্রোরেল যাত্রীদেড় জন্য একটি বাইসাইকেল শেয়ারিং সেবা। মেট্রো স্টেশন থেকে নেমে বাসাবাড়ি, অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানোর সুবিধার্থে (লাস্ট-মাইল কানেক্টিভিটি) ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর সাথে জোবাইক এ চুক্তি করেছে।
প্রশ্ন: জোবাইকের ভাড়া কত বা ১ টাকা মিনিটের হিসাব কী?
উত্তর: জোবাইকে প্রতি রাইডের জন্য শুরুতে ২ টাকা আনলকিং ফি দিতে হবে। এরপর প্রতি মিনিটের জন্য ১ টাকা করে ভাড়া যুক্ত হবে।
উদাহরণ: ১০ মিনিটের রাইডে খরচ হবে (২ + ১০) = ১২ টাকা। ২০ মিনিটের রাইডে খরচ হবে (২ + ২০) = ২২ টাকা।
প্রশ্ন: প্রথম ধাপে কোন কোন মেট্রো স্টেশনে জোবাইক পাওয়া যাবে?
উত্তর: প্রথম ধাপে পাইলট প্রকল্প হিসেবে উত্তরা অংশের ৩টি প্রধান স্টেশনে এ সেবা চালু হচ্ছে:
উত্তরা উত্তর (Uttara North)
উত্তরা সেন্টার (Uttara Center)
উত্তরা দক্ষিণ (Uttara South)
প্রশ্ন: সাইকেল কিভাবে ব্যবহার বা আনলক করতে হবে?
উত্তর: স্মার্টফোনে ‘JoBike’ অ্যাপ ইনস্টল থাকতে হবে। সাইকেলের গায়ে থাকা QR Code স্ক্যান করলে অটোমেটিক লক খুলে যাবে এবং রাইড শুরু হবে।
প্রশ্ন: সাইকেল চালিয়ে কোথায় রেখে দেব বা রাইড শেষ করব কিভাবে?
উত্তর: গন্তব্যে পৌঁছানোর পর অথবা মেট্রো স্টেশনের কাছে নির্ধারিত ‘জোবাইক হাব’ বা পার্কিং জোনে সাইকেল নিয়ে লক বা লক ম্যানুয়ালি বন্ধ করে অ্যাপ থেকে রাইড অ্যান্ড/ফিনিশ করতে হবে।
প্রশ্ন: জোবাইক চালুর মূল সুবিধা বা উদ্দেশ্য কী?
উত্তর: মেট্রোরেল থেকে নামার পর সংক্ষিপ্ত দূরত্বের গন্তব্যে (যেমন: বাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস) যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত রিকশাভাড়া বাঁচানো এবং যাতায়াত আরও দ্রুত, স্বাস্থ্যকর ও পরিবেশবান্ধব করা।
প্রশ্ন: কোন কোন এলাকার অধিবাসী বা শিক্ষার্থীরা বেশি উপকৃত হবেন?
উত্তর: প্রথম ধাপে উত্তরা রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্ট (RUAP), উত্তরা রূপায়ণ সিটি, শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি, বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি (BUFT) এবং মেট্রো ডিপোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেশি উপকৃত হবেন।
প্রশ্ন: প্রথম ধাপে কতগুলো সাইকেল থাকবে?
উত্তর: ৬ মাসের এই পাইলট প্রকল্পে প্রথম ধাপে ১৫০ থেকে ৩০০টি প্যাডেল বাইসাইকেল থাকবে। পরবর্তীতে চাহিদা অনুযায়ী সাইকেলের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
প্রশ্ন: জোবাইক সেবার টাকা পরিশোধ বা পেমেন্ট পদ্ধতি কী?
উত্তর: জোবাইক অ্যাপের ডিজিটাল ওয়ালেটে বিকাশ, নগদ বা ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে রিচার্জ করে ভাড়া পরিশোধ করা যাবে।
প্রশ্ন: মেট্রোরেলের বাকি স্টেশনগুলোতে (যেমন: মিরপুর, ফার্মগেট, মতিঝিল) কবে জোবাইক চালু হবে?
উত্তর: উত্তরায় ৬ মাসের পাইলট প্রকল্প সফল হলে পর্যায়ক্রমে এমআরটি লাইন-৬-এর সকল স্টেশনে (মিরপুর, শাহবাগ, মতিঝিল ইত্যাদি) সেবাটি চালু করা হবে।
প্রশ্ন: সাইকেল চালানোর জন্য নির্ধারিত আলাদা লেন থাকবে কি?
উত্তর: বর্তমানে নির্দিষ্ট সাইকেল লেন নেই, সাধারণ রাস্তা দিয়েই চালাতে হবে। তবে জোবাইক কর্তৃপক্ষ ও যাত্রীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ডেডিকেটেড সাইকেল লেন তৈরির বিষয়টি বিবেচনায় রাখছে।
প্রশ্ন: জোবাইক কি কেবল মেট্রোরেল যাত্রীরাই ব্যবহার করতে পারবেন?
উত্তর: না, অ্যাপ ব্যবহারকারী যে কেউ উত্তরা অঞ্চলের নির্দিষ্ট পার্কিং হাব থেকে এই সাইকেল নিয়ে রাইড শুরু ও শেষ করতে পারবেন।
প্রশ্ন: রাইড শেষ করে নির্দিষ্টি পার্কিং জোন ছাড়া অন্য জায়গায় সাইকেল রেখে দিলে কী হবে?
উত্তর: জোবাইকের নির্ধারিত 'জিও-ফেন্সড' পার্কিং হাবের বাইরে বাইসাইকেল রাইড শেষ করলে প্যানাল্টি বা অতিরিক্ত ফি যুক্ত হতে পারে, তাই অনুমোদিত জোনেই লক করতে হবে।
প্রশ্ন: ইলেকট্রিক বাইক (E-Bike) নাকি প্যাডেল বাইসাইকেল দেওয়া হবে?
উত্তর: প্রথম ধাপে সাধারণ স্বাস্থ্যকর প্যাডেল বাইসাইকেল দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে চাহিদা অনুযায়ী ই-বাইক (E-Bike) যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশ্ন: জোবাইক সার্ভিসটি কি ২৪ ঘণ্টা পাওয়া যাবে?
উত্তর: সাধারণত মেট্রোরেল চলাচলের সময়সূচির সঙ্গে মিল রেখে (সকাল থেকে রাত পর্যন্ত) সার্ভিস পার্কিং হাবগুলো সক্রিয় থাকবে।




