সালমান শাহ হত্যা মামলা, কারাগারে ডন

আদালত থেকে কারাগারে নেয়া হচ্ছে অভিনেতা ডনকে
আদালত থেকে কারাগারে নেয়া হচ্ছে অভিনেতা ডনকে | ছবি: সংগৃহীত
0

চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুনানি শেষে আজ (রোববার, ৯ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে তারপক্ষে কোনো আইনজীবী ছিল না।

এদিন আসামিকে আদালতে তোলা হলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পুলিশ পরিদর্শক আরিফুর রহমান তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। ওই আবেদনে তার জামিনের ঘোর বিরোধিতা করে উল্লেখ করা হয়, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আসামি দীর্ঘদিন যাবত পলাতক ছিলেন। তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। আসামি জামিন পেলে তদন্তে বিঘ্নসহ চিরতরে পলাতক হতে পারে।

পরে পুলিশ প্রহরায় তাকে কাঠগড়ায় নেয়া হয়। এসময় ঢাকা মহানগর দায়রা আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী তাকে কারাগারে পাঠানোর প্রার্থনা করেন। যদিও কাঠগড়ায় নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে ছিলেন ডন। তারপক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় জামিন শুনানি হয়নি। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এর আগে, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এরপর তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় করা অপমৃত্যু মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন আদালত। এই নির্দেশের পর ওইদিন মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক স্ত্রী সামিরা হক ও খলনায়ক ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন— সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু, রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই সময় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই অভিযোগটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত করতে সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। তদন্ত শেষে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। প্রতিবেদনে এ ঘটনাকে আত্মহত্যা বলা হয়। পরে ওই বছরের ২৫ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন গৃহীত হয়। তবে প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠান আদালত। দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমদাদুল হক। ওই প্রতিবেদনেও সালমান শাহর মৃত্যুকে অপমৃত্যু বলা হয়। কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরীর মৃত্যুর পর ছেলে হত্যা মামলার বাদী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন মা নীলা চৌধুরী। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেন। সর্বশেষ মামলাটি তদন্ত করে পিবিআই।

২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর আদালত ওই প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। ২০২২ সালের ১২ জুন এই আদেশের বিরুদ্ধে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের হয়।

জেআর