বর্তমান সরকার শূন্য হাতে ক্ষমতায় এসেছে: মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান | ছবি: এখন টিভি
0

শেখ হাসিনা দেশের অর্থনীতি লুট করে শূন্যের কোঠায় নিয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার শূন্য হাতে ক্ষমতায় এসেছে। একেবারে শূন্য হাতে। হাসিনা এই দেশের অর্থনীতিকে লুট করে একেবারে শূন্যের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল।’ আজ (মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট) দুপুরে টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভিত বিশিষ্ট একতলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, ‘ড. ইউনূস প্রায় ১৮ মাস থেকে সেটাকে একদমই উঠাতে পারে নাই। শেষ মাসে তো বেতন দেবে কীভাবে সেটা নিয়েও চিন্তায় পড়ে গিয়েছিল। এরকম একটা অবস্থায় আমরা কিন্তু সরকার গঠন করেছি। তা সত্বেও কিন্তু আপনারা লক্ষ্য করছেন কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে প্রধানমন্ত্রী উনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড দিচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড যাতে আপনারা সবাই পান অর্থাৎ প্রত্যেকটা পরিবারের গৃহিণী মা তিনি যাতে পান সেজন্য কিন্তু আমরা এরইমধ্যে যারা তথ্য সংগ্রহ করবে তাদের জন্য ইন্টারভিউ নিয়ে তাদের একটা টিম করেছি। ইউএনও সাহেবরা তাদের প্রশাসন টিম নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে এই ফ্যামিলি কার্ড দেয়া শুরু হবে। প্রত্যেকটা বাড়ির প্রত্যেকটা মা এই ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। শতশত কোটি টাকা হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। এটা কিন্তু এই শূন্য অর্থনীতির মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শুরু করেছেন।’

আরও পড়ুন:

বিরোধীদলের উদ্দেশে আহমেদ আযম খান বলেন, ‘শান্ত হোন, হুঁশে আসেন, বেহুঁশ হবেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। পাঁচ বছর পর নিরপেক্ষ নির্বাচনে জনগণ যাকে ভোট দেবে, তারাই সরকার গঠন করবে।’

আহমেদ আযম খান বলেন, ‘আপনারা তো আবারও পাপাচার করবেন ‘‘ভোট দেন, বেহেশত দেবো’’; নাউজুবিল্লাহ মিন জালেক। জনগণ বুঝে যে এই বেহেশতের টিকিট মানে পাপাচার। এখানে আমরা যাবো না বলেই জনগণ ৩০০ আসনের মধ্যে সোয়া ২০০ আসনে বিএনপিকে ভোট দিয়েছে।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘আজকে বিরোধীদল অযথা কাল্পনিক আস্ফালন করেছেন। আমরা বিরোধীদলের উদ্দেশে বলতে চাই শান্ত থাকুন, দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন। জ্বালাও-পোড়াও করে ওই ফ্যাসিবাদের চরিত্রে যাবেন না। আমরা আর বাংলাদেশে জ্বালাও-পোড়াও দেখতে চাই না। আমরা কোনো সিলের নির্বাচন দেখতে চাই না। আমরা কোনো জোর জবরদস্তি শাসন দেখতে চাই না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার সেবকের সরকার। আমরা সেবা করবো। পাঁচ বছর পরে আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে আবার জনগণের কাছে যাবো। জনগণ যদি আমাদের ভোট দেয় আসবো। আপনাদের ভোট দিলে আসবেন। জ্বালাও-পোড়াও করে অযথা ওই সচিবালয়-মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে দেশটাকে অস্থিতিশীল করবেন না। কথা খুব পরিষ্কার।’

আরও পড়ুন:

তিনি বলেন, ‘যেমন পার্লামেন্টে দায়িত্বশীল আচরণ করেন, আমরা বারবার ধন্যবাদ জানিয়েছি। তেমনি পার্লামেন্টের বাইরে মাঠের আন্দোলনে দায়িত্বশীল আচরণ করেন। এটাই বাংলাদেশের মানুষ চায়, বাংলাদেশের মানুষ আশা করে। আপনাদের বলবো আমাদের সরকারের সঙ্গে থাকুন, ঐক্যবদ্ধ থাকুন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ থাকুন। আমরা একটা সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ আপনাদের ইনশা আল্লাহ উপহার দেবো।’

আরও পড়ুন:

বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি সৈয়দ মজিবর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন, বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল, বাসাইল পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তারুজ্জামান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টুসহ আরও অনেকে।

এসএস