গতকাল (মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির সমন্বয়ের মুখ্য দায়িত্বে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ। প্রজ্ঞাপনে তাকে কমিটির সমন্বয়ক করা হয়েছে।
এছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু কমিটির সহ-সভাপতি এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম; প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ বিভাগ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিবরা।
প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নেতৃত্বে গঠিত এ উচ্চপর্যায়ের কমিটি জলবায়ু অর্থায়ন ও কার্বন ক্রেডিট বিষয়ে বাংলাদেশের জাতীয় রূপকল্প, লক্ষ্য ও কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করবে। কার্বন ক্রেডিট এবং জলবায়ু অর্থায়নসংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে সামগ্রিক নীতিগত দিকনির্দেশনাও দেবে কমিটি।
প্যারিস চুক্তির আর্টিকেল-৬-সহ আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের আলোকে বাংলাদেশের জাতীয় কার্বন ক্রেডিট ও জলবায়ু অর্থায়ন কাঠামো প্রণয়ন, অনুমোদন ও বাস্তবায়নের বিষয়ে পরামর্শ দেবে এই কমিটি। একইসঙ্গে দেশে কার্বন ট্রেডিং কার্যক্রম পরিচালনার নীতিগত দিকনির্দেশনা প্রদান এবং আর্টিকেল-৬ বাস্তবায়নে মনোনীত জাতীয় কর্তৃপক্ষ বা ডেজিগনেটেড ন্যাশনাল অথরিটির কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করবে।
জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত, নীতি ও নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য পৃথক ৩২ সদস্যের ‘জলবায়ু অর্থায়ন সম্পর্কিত বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এই বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি এবং ড. সাইমুম পারভেজ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব হবেন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যসচিব।
কমিটিটি জাতীয় কমিটির গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিত পরিবীক্ষণ করবে।
জলবায়ু অর্থায়ন জাতীয় কমিটির সমন্বয়ক ড. মো. সাইমুম পারভেজ বলেন, ‘এটি আরও সবুজ, জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার পথে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। এই জাতীয় কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সবুজ বাংলাদেশ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নেতৃত্বে নেয়া এ উদ্যোগ জলবায়ু অর্থায়ন ও কার্বন ট্রেডিংয়ে বাংলাদেশের পথচলাকে আমূল বদলে দিতে পারে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে আমরা আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন আকর্ষণ, উচ্চমানের কার্বন ক্রেডিট সৃষ্টি এবং এর সুফল স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে চাই।’
ড. সাইমুম পারভেজ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশ এরইমধ্যে বিশ্বে সাহস, উদ্ভাবন ও অভিযোজন সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে। আমাদের প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা রয়েছে। যথাযথ নীতি, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশ জলবায়ু অর্থায়ন ও কার্বন ট্রেডিংয়ে বিশ্বের জন্য একটি অনুসরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠতে পারবে।’
নবগঠিত জাতীয় কমিটি জলবায়ু অর্থায়নসংক্রান্ত নীতি, কৌশল ও নির্দেশিকা চূড়ান্ত করা; বিদ্যমান নীতি-কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংস্কারের সুপারিশ; দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় জলবায়ু তহবিল এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ; অর্থায়ন সংগ্রহের কৌশল নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি ও প্রকল্পের অগ্রগতি পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন করবে।
জাতীয় কমিটি বাস্তবায়ন কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কারিগরি কমিটিগুলোর কার্যক্রম তত্ত্বাবধান, প্রতিবেদন পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। পাশাপাশি জলবায়ু অর্থায়নসংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় নীতিগত বিষয়ে উদ্ভূত জটিলতা নিরসনেও সিদ্ধান্ত দেবে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জাতীয় কমিটির সভা বছরে ন্যূনতম দুইবার অনুষ্ঠিত হবে। তবে প্রয়োজন হলে যেকোনো সময় সভা আহ্বান করা যাবে। কমিটি প্রয়োজনে নতুন সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। প্রজ্ঞাপন জারির সঙ্গে সঙ্গে কমিটি কার্যকর হয়েছে।





