জ্বালানি সংকটের চিত্র এখন দেশজুড়ে। শুরুতে তেল, এরপর গ্যাস-বিদ্যুতেও মিলছে না নিরবচ্ছিন্ন সেবা, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে উৎপাদনখাতে।
পরিসংখ্যান বলছে, দেশে গেলো নয় বছরে কমেছে গ্যাস উৎপাদন। গেলো বছর দিনে গড়ে যেখানে উত্তোলন হতো ১৮২ কোটি ঘনফুট গ্যাস তা নেমে এসেছে ১৬২ কোটি ঘনফুটে। কমছে বিদ্যুৎ উৎপাদনও। লোডশেডিং ছাড়িয়েছে ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত। এমন অবস্থায়, স্থবিরতা কাটাতে স্বল্পমেয়াদি সমাধানের ওপর জোর দেয়ার দাবি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের।
বিকেইএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘যদি ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টটা সুন্দর করে করা হয় এবং সব দিক চিন্তা করে যেটা দেশের জন্য ভালো সেভাবে যদি সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তাহলে এই সমস্যাটা আসলে থাকবে না। খুব অল্প সময়েই এটা কিছুটা আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। আমাদের এখন ব্যক্তি চিন্তা থেকে বের হয়ে কীভাবে ইন্ডাস্ট্রিগুলো টিকিয়ে রাখা যাবে এবং আরও বেশি করে কর্মসংস্থান করা যাবে সেটিকেই এখন প্রাধান্য দেয়া উচিত।’
দেশের আবাসিক থেকে শিল্প উদ্যোক্তা, গ্রাম থেকে শহরজুড়ে যখন নাকাল মানুষ, তখন সংকট উত্তরণে জাতীয় সংসদের প্রশ্নত্তোরে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, দ্রতই তুলে ধরা হবে ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা।
যদিও দেশিয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৮ সালের ডিসেম্বরে মহেশখালীর কুতুবজোনে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালুসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানি পণ্যে করছাড় দেবে সরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রস্তাবিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন হলে, সামগ্রিকভাবে যে জ্বালানির সমস্যা আছে, সেটির সমাধান আমরা করতে পারবো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা আরও বৃদ্ধি পাবে।’
তবে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কতটা সফলতার মুখ দেখবে? সফলতাই বা আসবে কবে— এমন প্রশ্নে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ সালেক সুফী বলছেন, চ্যালেঞ্জিং হলেও জ্বালানি ইস্যুকে জাতীয় গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। গ্যাস কূপ খননে জোর দেয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনেও অগ্রাধিকার দেন তিনি। জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিতেরও তাগিদ তার।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ সালেক সুফী বলেন, ‘জ্বালানি ও বিদ্যুৎকে ন্যাশনাল প্রায়োরিটি করে, সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করে কাজগুলো করা উচিত। পেট্রোবাংলা, বিপিসি বা বাপেক্স—এগুলোর প্রশাসনিক সংস্কার দরকার, পেশাদারদের সম্পৃক্ত করা দরকার। মাটির নিচে উত্তোলনযোগ্য বিশাল কয়লার মজুত আছে। সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে এটা করে, যেসব জায়গায় কয়লার জাহাজ আসার সমস্যা আছে, সেগুলো ফিট করতে পারে।’
এদিকে বাড়তি দামে এলএনজি আমদানিতে চাপ পড়ছে বৈদেশিক মুদ্রায়। বিইআরসির সাবেক এই কর্মকর্তা বলছেন, গ্যাস সংকট কাটাতে না পারলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আরও সংকটে পড়বে। তাই আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশিয় উৎসে জোর দিতে হবে সরকারকে।
বিইআরসি সাবেক চেয়ারম্যান মকবুল ই এলাহী বলেন, ‘আমাদের নিজেদের যে গ্যাসক্ষেত্রগুলো আছে, এটাকে আজকে আমি যদি শুরু করি, এক বছরের মধ্যে ২০০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন প্রোডাকশন বাড়তে পারে। এটা একদিনে বাড়বে না, কিন্তু প্রতি মাসে বাড়বে। আমার মনে হয়, এই কাজগুলোতে ইমিডিয়েটলি হাত দেয়া দরকার। এটা ছাড়া বিকল্প নেই। এলএনজির ওপর নির্ভর করলে হবে না।’
এছাড়া সংকট মোকাবিলায় জ্বালানি সংক্রান্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।





