আজ (সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে কার্যপ্রণালী বিধির ৭১ বিধিতে জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার মধ্যে প্রশ্ন উত্থাপনের সময় রেহানা আক্তার এ মন্তব্য করেন।
সড়কে বিশৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা ও বিদ্যুৎ চুরি রোধে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবটি এদিন সংসদে উত্থাপন করেছিলেন রেহানা আক্তার রানু। তার প্রস্তাবের ওপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ একটি বিস্তারিত বিবৃতি দেন। এরপর স্পিকার তাকে সম্পূরক প্রশ্ন করার সুযোগ দিলে এমন মন্তব্য করেন এমপি রানু।
এসময় নিজের প্রস্তাবের বিষয়টি আরেকবার স্পষ্ট করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আমার যে বিষয়, নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ বলিনি, আমি বলেছি চলাচল নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে।’
এসময় বিগত সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গও টেনে আনেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, ‘এই রিয়েল হিরোকে খলনায়িকা হাসিনা শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাসিনা জানত না যে, রাখে আল্লাহ মারে কে।’
এরপর তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৮০ লাখ রিকশা রাস্তায় চলছে এবং প্রতিদিন ঢাকা শহরে নতুন করে আরও ৩০০ অটোরিকশা যুক্ত হচ্ছে। প্রতিদিন এসব রিকশা চার্জিংয়ের জন্য ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, যা বর্তমান লোডশেডিংয়ের অন্যতম কারণ। বিদ্যুতের খুঁটি থেকে অবৈধভাবে সংযোগ নেয়ার কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তবে এই খাতের সঙ্গে লাখ লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত থাকার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে এমপি রানু বলেন, ‘বিকল্প বা পরিকল্পিত ব্যবস্থা না করে এসব যান জব্দ (ডাম্পিং) করা বা চালকদের পুলিশি হয়রানি করা ঠিক হবে না।’ বিকল্প হিসেবে তিনি প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে এসব যানকে ভেতরের রাস্তায় চলাচলের ব্যবস্থা করা, সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দেওয়া, বিআরটিএর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা এবং ঢাকা শহরে অঞ্চলভিত্তিক (জোন) চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
এমপি রানুর বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে একটি সুশৃঙ্খল নীতিমালার আওতায় আনার কাজ এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। রিকশাচালকদের কর্মসংস্থানের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে এবং পরিবেশের কথা বিবেচনায় নিয়ে নিরাপদ ব্যাটারি ব্যবহারের শর্ত যুক্ত করা হচ্ছে। একটি নিবন্ধনের (রেজিস্ট্রেশন) বিপরীতে যেন একাধিক অটোরিকশা চলতে না পারে, সে জন্য ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও কিউআর কোডের মাধ্যমে যানগুলোকে শনাক্ত করার ব্যবস্থা চালু করা হবে। পাশাপাশি এদের জন্য নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ করে দেয়া হবে বলেও সংসদকে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।





