এ লক্ষ্যে আইএইএর ‘রেজ অব হোপ’ উদ্যোগকে জাতীয় পর্যায়ে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দেয়ার পাশাপাশি একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ ক্যান্সার কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠাকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।
আজ (মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর) অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় আইএইএর ‘রেজ অব হোপ: ডেলিভারিং অন দ্য প্রমিজ অব ক্যান্সার কেয়ার’ শীর্ষক বৈজ্ঞানিক ফোরাম-২০২৬-এ বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির শান্তিপূর্ণ প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের ক্যান্সার পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
এর মাধ্যমে সবার জন্য সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা-৩ অর্জনে বাংলাদেশের অবদান আরও জোরদার করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘ক্যান্সারের টেকসই চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিতে শুধু আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো নির্মাণ যথেষ্ট নয়। রোগ প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ, নির্ভুল রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা, দক্ষ জনবল, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং প্যালিয়েটিভ কেয়ারসহ সবকিছুকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে।’
আরও পড়ুন:
তিনি জানান, বাংলাদেশ ২০২৫ সালে আইএইএর ‘রেজ অব হোপ’ উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে আইএইএর সঙ্গে অংশীদারিত্বকে জাতীয় পর্যায়ে কার্যকর কর্মসূচিতে রূপ দেয়ার কাজ চলছে।
মন্ত্রী বলেন, ‘এ উদ্যোগের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হলো একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ ক্যান্সার কেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা। এমন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হলে ক্যান্সার রোগীদের চিকিৎসার বিভিন্ন ধাপের জন্য এক হাসপাতাল বা প্রতিষ্ঠান থেকে অন্যত্র ছুটতে হবে না। একই ব্যবস্থার আওতায় রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে দেশের ক্যান্সার চিকিৎসা আরও সমন্বিত, সহজলভ্য হবে এবং রোগীদের ভোগান্তিও কমবে।
ফকির মাহবুব আনাম ক্যান্সার চিকিৎসাব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আইএইএর কারিগরি সহযোগিতার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, ‘দক্ষতা উন্নয়ন, জ্ঞান বিনিময় এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি টেকসই ক্যান্সার চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তুলতে আইএইএর সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
মন্ত্রী জানান, আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় আইএইএ-ডব্লিউএইচও-ইমপ্যাক্ট রিভিউ মিশনের দিকে বাংলাদেশ আগ্রহের সঙ্গে তাকিয়ে আছে। এ মিশনের মাধ্যমে দেশের জাতীয় ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ সক্ষমতার একটি প্রমাণভিত্তিক মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘এই মূল্যায়নের মাধ্যমে ক্যান্সার চিকিৎসাব্যবস্থার কোথায় কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে এবং কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন, সে বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক দিকনির্দেশনা পাওয়া যাবে।’
তিনি বলেন, ‘ক্যান্সার চিকিৎসায় দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি অপরিহার্য। এজন্য গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি শিক্ষার্থী, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের আন্তর্জাতিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, ফেলোশিপ ও যৌথ গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে।’
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী বলেন, ‘পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সুফল শুধু উন্নত প্রযুক্তি ও চিকিৎসা অবকাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। সমাজের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন মানুষের কাছেও এই প্রযুক্তির সুফল পৌঁছে দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি সমন্বিত, ন্যায়সংগত, টেকসই এবং রোগীকেন্দ্রিক ক্যান্সার চিকিৎসাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়।’
আইএইএ ও এর অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে “রেজ অব হোপ” উদ্যোগের প্রতিশ্রুতিকে দেশের মানুষের জন্য বাস্তব ও দীর্ঘস্থায়ী সুফলে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।৮





