পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর জ্বালানি তেলের দর উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী জানান, ভারতের কলকাতায় প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য ১৩৪ দশমিক ৭৬ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪ দশমিক ৮৩ টাকা, নেপালে ১৬১ দশমিক ২৪ টাকা এবং পাকিস্তানে ১৮৫ দশমিক ৪৮ টাকা। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে স্বয়ংক্রিয় দর পদ্ধতি পুরোপুরি কার্যকর করলে ডিজেলের প্রতি লিটারের দাম ২০৫ টাকা নির্ধারণ করতে হতো। তবে সাধারণ জনগণ, গণপরিবহন ও কৃষকদের কথা বিবেচনা করে সরকার বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে দাম তুলনামূলক সহনীয় রেখেছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে দাম কম থাকায় প্রবাসী আয় দিয়ে কেনা জ্বালানি প্রতিবেশী রাষ্ট্রে পাচারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে আমদানি করা জ্বালানির বড় রুট হুমরমজ প্রণালি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে, যা কোভিড বা ইউক্রেন যুদ্ধের চেয়েও জটিল।
আরও পড়ুন:
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) আর্থিক সংকটের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, আগে আয় করা অতিরিক্ত অর্থ জমা থাকায় সংস্থাটি ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান দিয়েও এতদিন দাম বাড়ায়নি। তবে পরিস্থিতি সামাল দেয়া এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
জনগণের কষ্টের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে এই সিদ্ধান্তের কারণে জনগণের যে কষ্ট হবে তা আমি উপলব্ধি করি। সামনে কোনো বিকল্প না থাকায় এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। এ জন্য আমি জনগণের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
তিনি আরও জানান, অসাধু চক্র যাতে বাড়তি ভাড়া আদায় বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য নৌপরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কঠোর বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই ঋণ বিগত সরকারের সময়ে নেওয়া হয়েছিল এবং শর্তগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত রোববার রাতে আন্তর্জাতিক বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেপ্টেম্বর মাসের জন্য ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং কেরোসিন ১৫৫ টাকা নির্ধারণ করে সরকার।





