আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস

শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছেন
শিক্ষকরা ক্লাস নিচ্ছেন | ছবি: এখন টিভি
0

আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস। ১৯৯৫ সাল থেকে জাতিসংঘের অঙ্গ সংস্থা ইউনেস্কোর সদস্যভুক্ত প্রতিটি দেশে এই দিনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়ে থাকে। শিক্ষকদের সম্মান রক্ষা এবং সমাজে তাদের অবদান স্মরণে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। শিক্ষাবিদরা বলেন, মেধা বিকাশ, নীতি-নৈতিকতার শিক্ষাসহ জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার পথ বাতলে দেন শিক্ষকরা। অপরদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জানান, দিবস হিসেবে শুধু একটি দিন নয়,সারাবছরে কল্যাণ বয়ে আনবে এমন উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার।

শিক্ষকতা কেবল সাধারণ পেশা বা জীবিকা নয়, এটি মানুষ গড়ার এক মহান ব্রত। যা দিয়ে তিনি তার শিক্ষার্থীর মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটান, বিনির্মাণ করেন দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ।

তবে অর্থনৈতিক বাস্তবতাসহ নানা কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহান এ পেশা তেমনভাবে মেধাবীদের আকৃষ্ট করতে পারছে না। সামাজিক অবক্ষয়, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাসহ নানা অজুহাতে প্রায়ই অপমান-অপদস্থ হতে হয় শিক্ষককে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জোর করে শিক্ষককে পদত্যাগে বাধ্য করানোসহ শিক্ষাঙ্গনে বহু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সাক্ষী হয়েছে দেশবাসী। এমন বাস্তবতায় দেশে উদযাপন হচ্ছে বিশ্ব শিক্ষক দিবস।

শিক্ষার্থীরা জানান, যে মানুষগুলো নিজেদের বিলিয়ে দিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন, বেশিরভাগ সময়ই তাদের থাকেনা উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।

একজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘আসলে একজন শিক্ষক একটা জাতির দর্পণ। কিছু শিক্ষক থাকে যারা মা-বাবার দায়িত্ব পালন করে।’

শিক্ষকেরা জানান, বাতিঘর হয়ে নীরবে প্রজন্মকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে দেন তারা। তবে তাদের কষ্টের কথা বলার সুযোগ কম। তারপরও এ পেশায় প্রাপ্তিও কোন অংশে কম নয়।

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম বিভাগ সহকারী অধ্যাপক শবনম জান্নাত বলেন, ‘বিভিন্ন রকমের অপ্রাপ্তি শিক্ষকদের আছে। কিন্তু দিনশেষে আসলে আমাদের প্রাপ্তিটা হলো যখন আমার শিক্ষার্থী ভালো করে। অনেক বছর হলো তো, অনেকগুলো ব্যাচকে পড়িয়েছি। কিন্তু আসলে ইন্ডিভিজুয়ালি প্রত্যেকটা শিক্ষার্থীই আমাদের কাছে অনেক মূল্যবান। সুতরাং কোনো শিক্ষার্থীকেই আমরা ভুলে যাই না। সবার কথাই আসলে আমাদের মনে পড়ে।’

স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক ফারিশতা সিদ্দিকী বলেন, ‘আমাদের সাইকোলজি বলেন বা আমাদের থিংকিং লেভেলটা, এটা আসলে আট-দশটা প্রফেশনের কাছাকাছি ম্যাচ করবে না। এজন্য অনেকে বলে শিক্ষকতা আসলে মহান পেশা কেন। আমরা আসলে ট্রু, আমরা গুরুদক্ষিণা নিয়েই কাজ করি, কিন্তু আমার কাছে মনে হয় আমরা যতটুকু নেই, তার থেকে অনেক বেশি করি। আমার কাছে মনে হয়েছে আমার প্রাপ্তির জায়গাটা অনেক বিশাল। আমি এতটুকু বলতে পারি যে, আমার এই যে শান্তিটা আমি পাই—আমার ইউনিভার্সিটিতে এসে আমার স্টুডেন্টদের সাথে ক্লাসরুমে ঢুকে, এটা আমাকে হয়তো লাইফে অন্য কোনো প্রফেশন অন্য কোনোভাবে দিতে পারবে না।’

শিক্ষকদের জীবনমান উন্নয়নে আলাদা বেতন কাঠামো তৈরির বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে বলে জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘একটাদিন দিয়ে তো আর জীবন হয় না। মানে আপনি জন্মদিন কীভাবে উদযাপন করলেন, তা দিয়ে আপনার বছর বা আপনার ক্যারিয়ার বা আপনার জীবন তৈরি হবে না। তাই স্পেসিফিক সম্মান দেবার জন্য, সেটা ভিন্ন ইস্যু। আমরা কাজ করছি শিক্ষকের অবস্থান উন্নয়নের জন্য। শিক্ষকের পুরো জীবনটার মান উন্নয়ন নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

শিক্ষকদের উন্নয়নের মাধ্যমে বিএনপি সরকার শিক্ষাখাতে গুণগত সংস্কার করতে চায় বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।

ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, ‘শিক্ষকরা যেহেতু সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তাদের সব জায়গা থেকে—মানে বেতন থেকে শুরু করে প্রমোশন থেকে শুরু করে ট্রেনিং—সব জায়গাতেই শক্ত নজর দেয়া দরকার এবং সেভাবেই আমরা দিচ্ছি।’

জেআর