ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এপিপিজি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারের বৈঠক

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এপিপিজি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারের বৈঠক
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এপিপিজি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ডেপুটি স্পিকারের বৈঠক | ছবি: জাতীয় সংসদের ফেসবুক
0

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের (এপিপিজি) একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকারের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সদস্য আপসানা বেগম, শওকত আদম এবং যুক্তরাজ্যের অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপের কর্মকর্তা লর্ড কুরবান হুসাইন প্রতিনিধিদলে ছিলেন।

বৈঠকের শুরুতে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় অভিনন্দন জানায়। এসময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, ২০২৬ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশে-বিদেশে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ককে গভীর ও ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরাও এ সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারে সরকার ফ্যামিলি কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু করেছে। যুক্তরাজ্যেও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে নাগরিকদের জন্য এ ধরনের বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ব্রিটিশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আদলে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের জন্য একটি মডেল হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্রিটিশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শাখা চালুর বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রতিনিধিদল। এ বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার সম্মতি জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে ব্রিটিশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শাখা চালু হলে শিক্ষার মান বজায় রাখতে যুক্তরাজ্যের শিক্ষক ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন:

বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার বলেন, দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষকে সমানভাবে বিবেচনা করা হয়। বর্তমানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অনেক সদস্য সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানান তিনি।

এসময় প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বাংলাদেশের সংসদে দীর্ঘ সময় নারী নেতৃত্বের বিষয়টি উল্লেখ করেন।

দেশের গণতান্ত্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, বিগত দেড় দশকে দেশে গণতান্ত্রিক চর্চা ছিল না। বর্তমানে সংসদে গণতান্ত্রিক কার্যক্রম চালু রয়েছে। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী হয়েছে এবং বিরোধী দল জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সংসদ অধিবেশন দেখা এবং সংসদ ভবন পরিদর্শনের সুযোগ দেয়া হচ্ছে।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে না দাবি করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করতে আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও জনমুখী করা হচ্ছে।

বৈঠকে দুই দেশের পার্লামেন্টারি অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ডেপুটি স্পিকার ও ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।

সাক্ষাৎ শেষে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদলকে জাতীয় সংসদ ভবন ও জুলাই স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানান ডেপুটি স্পিকার। প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে।

এসময় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এসএস