পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু; বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ

শিক্ষকের মৃত্যু ঘিরে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ
শিক্ষকের মৃত্যু ঘিরে বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ | ছবি: এখন টিভি
0

পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর আজমের মৃত্যুর জন্য বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে দায়ী করে বিদ্যালয়ে ৪ ঘণ্টা অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে অভিভাবক ও স্থানীয়রা।

আজ (মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করে। এ সময় আকলিমা আক্তার ইতি নামে এক সহকারী শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা বন্ধ থাকে বিদ্যালয়ে পাঠদানসহ সকল কার্যক্রম। পরে পুলিশসহ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে তারা বাড়ি ফিরে যান।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সম্প্রতি কমিটি করাসহ বিদ্যালয়ের নানা বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নুর আজমকে হেনস্থা ও হুমকি ধামকি দিয়েছিলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম ও আকলিমা আক্তার। এছাড়া রাজনৈতিকভাবেও নানা চাপের মুখে পড়েছিলেন তিনি। সোমবার দুপুরে বিদ্যালয় সংলগ্ন মীরগড় বাজারে চা খেতে গিয়ে বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। অবস্থা গুরুতর হলে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই শিক্ষকের পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি কমিটি করা নিয়ে মানসিক চাপেই তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।

ওই প্রধান শিক্ষকের ভাগনে আব্দুস সালাম মিঠু বলেন, ‘আমার মামা অত্যন্ত সহজ সরল মানুষ। তিনি নিয়ম অনুযায়ী বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি করার দাবি করে আসছিলেন। কিন্তু কয়েকজন শিক্ষক ও প্রভাবশালীরা তাকে সিলেকশনে কমিটি করার চাপ দিচ্ছিলেন। এমনকি তাকে ডেকে নিয়ে অপমানও করা হয়। এই চাপ সইতে না পেরে আমার মামা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আমরা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচার দাবি করছি।’

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী শিক্ষক শাহাজুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে আমার ৪০ দিন আগে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তারপরে আর কোনো সমস্যা ছিলো না। এমনকি কমিটি করা নিয়ে তিনি তাকে সমর্থন দিতে বলেছেন আমি তাকেই সমর্থন দিয়েছি। তারপরেও উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি শ্রেণি আমাদের সম্পর্কে মব সৃষ্টি করছে।’

পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা বলেন, ‘বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েকজন শিক্ষককে বহিষ্কার করা, বদলি করা ও বিচার দাবি করেছেন। আমরা কাউকে সরাসরি বহিষ্কার করতে পারি না। তদন্ত করে প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এফএস