ডেঙ্গুর উৎস হিসেবে যেসব স্থাপনা চিহ্নিত তার প্রায় সবই গৃহস্থালি। যেসবে অভিযান-জরিমানাসহ সব মনোযোগ বাসাবাড়িতেই। আর মশক নিধনের ব্যর্থতার দায় শুধু বাড়িমালিকদের দিয়ে পার পাওয়ার চেষ্টা নগরের দায়িত্বশীলদের।
ঢাকা উত্তরে জরিপ কার্যক্রম দেখতে করপোরেশনের একটি টিমের সঙ্গী এখন টেলিভিশন। উত্তরার ৪ নম্বর সেক্টরে অন্তত ২০টি বাড়িতে চিরুনি অভিযানে লার্ভা মিললো মাত্র ২টিতে।
জনসচেতনতায় অনেক বাড়িতেই নেই লার্ভার উপস্থিতি। তবে ঢাকায় এতো মশা কোথা থেকে আসছে, জানতে এবার গন্তব্য উত্তরার মেট্রোস্টেশনে পাশে। ফেলে রাখা হাজার হাজার কংক্রিটের গর্তে জমে থাকা পানিই যেন মশার প্রজননস্থল।
ড্রোপারে পানি নিয়ে প্লেটে রাখতেই খালি চোখে দেখা যাচ্ছে লার্ভা ও পিউপারের উপস্থিতি। স্থানীয়রা বলছেন, কিছু বাসায় মশা মারার ওষুধ দিলেও ফাঁকা জায়গায় যান না কখনও।
স্থানীয়দের একজন অভিযোগ করেন, ফাঁকা জায়গায় দেয় হয় না ওষুধ। এই যে সাইডে আবাসস্থল আছে মানে কিছু মানুষজন বসবাস করে এই আশপাশ দিয়ে দেয় আরকি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে এমন জায়গায় মশার বংশ বিস্তার হয় না। এমন জায়গায় লার্ভার উপস্থিতি এরআগে কখনও দেখা যায়নি।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, ‘যদি ডাইরেক্ট সানলাইট কোনো পানির উপরে পড়ে, তাহলে ওইখানে কিন্তু এডিস মশা হবে না। সেজন্য আমার জানার ইচ্ছা যে ডাইরেক্ট সানলাইট পড়ছে এরকম জায়গায় এডিস মশা হয়েছে কিনা। যদি হয়, তাহলে এটা একটা নতুন তথ্য।’
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর স্থায়ী সমাধানে বাসাবাড়ি ছাড়াও সব সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় নিয়মিত মশক নিধন কার্যকমের কোনো বিকল্প নেই।
কীটতত্ত্ববিদ ড. মঞ্জুর আহমেদ বলেন, ‘সোর্স রিডাকশন করা, লার্ভিসাইডিং করা, অ্যাডাল্টিসাইডিং করা—এসব কাজ করলে কিন্তু ওই ক্লাস্টারটা নিউট্রালাইজ হয়ে যাবে। নিউট্রালাইজ হয়ে পর লাস্ট রোগী পাওয়ার থেকে ৩ সপ্তাহের মধ্যে যদি কোনো আর রোগী না আসে নতুন কোনো রোগী, তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন যে এটা নিউট্রালাইজ হয়ে গেছে।’
শুধু আবাসিক এলাকাই নয়, প্রয়োজনে সব খোলা জায়গায় ক্রাশ প্রোগ্রাম নেয়ার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের।





