বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারের রূপ লাবণ্য উপভোগ করতে প্রতি বছর রাজধানীসহ সারা দেশ থেকে ছুটে যান লাখো পর্যটক। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ও আরামদায়ক ট্রেনের অভাব দীর্ঘদিন ধরেই ছিলো এ রুটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে পর্যটন শিল্পের অসীম সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সাধারণ যাত্রীদের পোহাতে হতো আসন সংকটের ভোগান্তি।
যাত্রীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসন ও চাহিদা মেটাতে আগের দুই জোড়া ট্রেনের সঙ্গে এবার ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে জনপ্রিয় ট্রেন মহানগর এক্সপ্রেসকে সম্প্রসারিত করা হয়েছে কক্সবাজার পর্যন্ত। সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত ৮টায় কমলাপুর রেলস্টেশনে এর উদ্বোধন করেন রেলপথমন্ত্রী।
এসময় মন্ত্রী জানান, চাহিদা বিবেচনায় ৩ জোড়া থেকে আগামীতে ৭ জোড়া ট্রেন দেয়া হবে এ রুটে। এছাড়া রেলওয়ের অকেজো লোকোমোটিভ ঠিক করতে প্রকল্প নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। এর মাধ্যমে ৭০টি লোকোমোটিভ বহরে যুক্ত করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘যেসব লোকোমোটিভ একেবারে অকেজো আছে, অন্তর্বর্তী সরকার এবং তার আগের ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় বেশকিছু লোকোমোটিভ আসার পর তা বেশিদিন ফাংশন করেনি। সেগুলোকে সচল করার জন্য একটা প্রকল্প আমরা নিচ্ছি। আমাদের কাছে প্রায় ১০০ এর বেশি লোকোমোটিভ আছে, যেগুলোর মধ্যে ৭০ থেকে ৭৫টিকে স্বল্প ব্যয়ে আবার লাইনে যুক্ত করা সম্ভব।’
দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে রেলওয়েতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে যাত্রীদের প্রত্যাশার আধুনিক রেল ব্যবস্থা নিশ্চিতের আশ্বাস দেন রেলমন্ত্রী।
রেলমন্ত্রী বলেন, ‘২ থেকে আড়াই বছরের মধ্যে আমরা বাংলাদেশ রেলওয়ের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও সার্ভিসের একটা আমল পরিবর্তন এবং প্রত্যাশা অনুসারে আধুনিক ট্রেন যোগাযোগ ব্যবস্থা বাংলাদেশে নিশ্চিত করতে পারবো, ইনশাআল্লাহ।’
এদিকে রেলসেবা সম্প্রসারণে উচ্ছ্বসিত যাত্রীরাও। নিয়মানুবর্তিতা ও যথাযথ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ট্রেন পরিচালনার তাগিদ তাদের।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা কক্সবাজার রুটে যুক্ত হওয়া নতুন ট্রেনের ভাড়া আসনভেদে সর্বনিম্ম ৬৯৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৬৪৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে শোভন চেয়ার ৬৯৫ টাকা, স্নিগ্ধা ১ হাজার ৩২৫ টাকা, এসি সিট ১ হাজার ৫৯০ টাকা এবং এসি বার্থ ২ হাজার ৩৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন সময়সূচি ও রুটের কারণে কেবল পর্যটকরাই লাভবান হবেন না; বরং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের মধ্যকার ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও নতুন গতি পাবে। তবে রেলওয়ের সেবা নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। তাই নতুন এ সংযোগে রেলওয়ের ভাবমূর্তি কতটা ঘোঁচাতে পারবে সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।





