এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে আরও ৩ বছর সময় দিয়েছে জাতিসংঘ

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ৩০তম পূর্ণাঙ্গ সাধারণ সভা
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ৩০তম পূর্ণাঙ্গ সাধারণ সভা | ছবি: সংগৃহীত
0

স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসির তালিকা থেকে বাংলাদেশকে উত্তরণে আরও তিন বছরের সময় দিয়েছে জাতিসংঘ। গতকাল (বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর) নিউ ইয়র্কে সাধারণ অধিবেশনের প্ল্যানারি মিটিংয়ে প্রস্তাবটি পাস হয়। ফলে চলতি বছরের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের নভেম্বর মাসে এলডিসি উত্তরণ হবে বাংলাদেশের। এটিকে জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য উল্লেখ করে সংস্থাটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান জানান, রোডম্যাপ অনুযায়ী বর্ধিত সময়ের মধ্যে উত্তরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সমর্থ হবে সরকার।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ৩০তম পূর্ণাঙ্গ সাধারণ সভায় উপস্থিত হন সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা। এতে সভাপতিত্ব করেন সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান।

বৈঠকের শুরুতেই জি-৭৭–এর পক্ষে উরুগুয়ের প্রতিনিধি বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর বাড়ানোর খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সভায় উপস্থিত কোনো দেশের প্রতিনিধি এতে বিরোধিতা না করায় সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয় প্রস্তাবটি। ফলে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বরের পরিবর্তে ২০২৯ সালের নভেম্বর মাসে এলডিসি উত্তরণ হবে বাংলাদেশের। এই উত্তরণ হলে পুরোদমে উন্নয়নশীল দেশ হবে বাংলাদেশ।

পরে এক বিবৃতিতে এটিকে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতি দেয় জাতিসংঘের বাংলাদেশ হাইকমিশন। আর সংস্থাটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান জানান, অতিরিক্ত এই সময়কে কাজে লাগিয়ে প্রতিযোগিতামূলক, বহুমুখী ও টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে সমর্থ হবে বাংলাদেশ সরকার। এসময়ে সরকারের অগ্রযাত্রায় সহযোগী দেশগুলো সহায়তা করবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।

আরও পড়ুন:

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন জুবাইদা খান বলেন, ‘আমাদের সরকার যে রোডম্যাপ তৈরি করেছে, সেটি একটা খুবই জরুরি জিনিস। সেটা আমরা পরিষ্কার করে দেখিয়েছি যে, তিন বছরে আমরা কী করে আমাদের যেসব বাধা-বিঘ্ন আছে সামনে সেটা কীভাবে সামলাতে পারি।’

ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেয়ার পর বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করে বর্তমান সরকার। মূলত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ঝুঁকি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় এ আবেদন করা হয়।

আবেদনের পক্ষে কূটনৈতিক আলোচনা এগিয়ে নিতে তিন বছরের কর্মপরিকল্পনাও প্রণয়ন করে সরকার। পরে আবেদনের ভিত্তিতে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য জুলাইয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশ করে সংস্থাটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ- ইকোসক।

১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাভুক্ত হয়। এলডিসিভুক্ত থাকার সুবাদে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ নানা সুযোগ পেয়ে এসেছে বাংলাদেশ। সাধারণত এলডিসি থেকে কোন দেশ বের হবে, সে বিষয়ে সুপারিশ করে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি।৮

এসএস