সংবাদ সম্মেলনে নারী সংবাদকর্মীরা সামনে বসবেন, নাকি পেছনে বসবেন, সেই প্রশ্নের সূত্র ধরে ‘পর্দা করার’ প্রসঙ্গ তোলেন ফয়জুল করিম।
তিনি বলেন, ‘আমার কথা হইলো, আমার কোনো বোন যদি আসে, শরিয়তসম্মতভাবে আসবে। আমরা সেটাকে বাধা দিচ্ছি না। আমার কোনো বোন যদি শরিয়তসম্মতভাবে সাংবাদিকতা করেন, আমরা বাধা দিচ্ছি না কিন্তু।
তিনি আরও বলেন, ‘যারা শরিয়তকে মানেন, আমার বোনটারও উচিৎ, তাদেরকে শরিয়ত মানার ব্যবস্থা করে দেয়া। পর্দা করে আসবে, পর্দা করে আসবে...। আমি শরিয়ত মানি, আমাকে শরিয়ত মানার সুযোগ করে দিতে হবে।’
দলটির নেতা নারীদের সঙ্গে টকশো করতে যান, মহাসচিবসহ অনেকে টকশো করেছেন, সাংবাদিকদের মধ্যে থেকে এমন কথা তোলা হলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির বলেন, ‘না, না, এটা ঠিক না। এ তথ্যটাও ঠিক না; মহাসচিব করেন নাই। একটা করছিল; আমরা বাধা দিয়েছি।’
আরও পড়ুন:
এসময় দেশের সব শরিয়তবিরোধী আইন রদ করে দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে গত গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ৬ দফা দাবিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লং মার্চ করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচিকে দ্বিমুখী নীতি হিসেবে তুলে ধরেন ফয়জুল করিম।
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়, বিরোধী দল কী করে, আর কী বলে, এটার মধ্যে বিতর্ক। লং মার্চ করছে সরকারের বিরুদ্ধে, আবার বলতেছে, সরকারের প্রতি আন্তরিক। তাহলে এত তেল কেন পোড়ালাম, কেন মানুষের ভোগান্তি করলাম, কেন লং মার্চ করলাম।’
একটা লং মার্চের স্বার্থকতা কী?— এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে ইসলামী আন্দোলনের কোনো কর্মসূচি নেই।
সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কেন দিচ্ছি না? কারণ আমরা সরকারকে আরও সময় দেবো। যেহেতু সরকার বলেছে, “সংকট সৃষ্ট, সমস্যা সমাধানে একটু সময় লাগবে”। এজন্য আমরা সমস্যা সমাধানের চাপও দিয়েছি এবং সময় নেয়ার কথা বলেছি, যে আপনি সময় নেন।’
আরও পড়ুন:
ফয়জুল করিম বলেন, ‘কিন্তু বিরোধী দল সেই সময় দিতে পারে নাই। তাদের লং মার্চের স্বার্থকতা বিলীন হয়ে গেছে।’
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন-২০২৬’ আরও পর্যালোচনার দাবি জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এ নেতা।
এই দাবিতে আগামীকাল (শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর) সব বিভাগীয় শহরে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের সদিচ্ছার প্রতি সুধারণা রাখছি। সম্ভবত গভীরভাবে না ভেবেই আইনটি আনা হয়েছে। সেজন্য সরকারকে বলবো, আইনটি নিয়ে অধিকতর পর্যালোচনা করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘উলামায়ে কেরাম ও আইনবিদদের সঙ্গে পরামর্শ করুন। প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনুন। কিন্তু সমস্যা সমাধানের নামে কোন অবস্থাতেই শরিয়াহ অমান্য করা যাবে না।’
এদিন দুপুরে পুরানা পল্টনে নিজেদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘হেবা আইনের বিতর্কিত সংশোধন প্রসঙ্গে শরিয়াহ ও আমাদের অবস্থান’ শিরোনামে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকে ইসলামী আন্দোলন। এতে দলের মহাসচিব গাজী আতাউর রহমানসহ বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।





