ফ্লোরজুড়ে সুনসান নীরবতা। ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে দোকানগুলো প্রতিদিন মুখর থাকলেও নেই আগের সেই কোলাহল, সাটারও বন্ধ, ঝুলছে তালা। এমন চিত্র গেল ২০ বছরে দেখেনি কেউ।
দৃশ্যটি রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি ও যমুনা ফিউচার পার্কের মোবাইল মার্কেটের চিত্র। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে রাজধানীর সবচেয়ে বড় এ দুই মোবাইল বাজার ছাড়াও বন্ধ দেশের প্রায় সব মোবাইল মার্কেট। যার মূলে জাতীয় ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রেশন বা এনইআইআর সিস্টেম চালু।
ব্যবসায়ীদের ৩ মাস সময় বেধে দিলেও ২০২৬ এর শুরুতেই বন্ধ হয়ে যায় আনঅফিশিয়াল সব মোবাইল হ্যান্ডসেট। বারবার সংলাপ কিংবা শুল্ক কমানোর আবেদন করা হলেও, তা আমলে না নেয়ায় শুরু হয় আরও ক্ষুব্ধ হন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। দাবি আদায়ে বিক্ষোভ করলে চলে ধরপাকড়।
যদিও, ব্যবসায়ীদের দাবি, বিটিআরসি ভবনে ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত বহিরাগতরা। অযথা তাদের গ্রেপ্তার করে হয়রানি করা হচ্ছে।
মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান সোহেল বলেন, ‘তথ্য আপনার আমার। যাচ্ছে দিল্লিতে, স্টোর হচ্ছে দিল্লিতে। আশেপাশে এমন কোনো রাষ্ট্র নাই যেখানে রাখা যায়? যেখানে আধিপত্যবাদ নিয়ে হাদি ভাই এত কথা বলেছেন, যে আধিপত্যবাদ নিয়ে আমাদের সর্বস্তরের মানুষ চিন্তা করছে আমরা কিভাবে এটা থেকে মুক্তি পাই সেখানেই কেন যেতে হবে?’
আরও পড়ুন:
মোবাইল ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি ছাড়াই হঠাৎ এই সিস্টেম চালু করায় পুরো বাজার অচল হয়ে পড়েছে। তারা বলছেন, এনইআইআর সিস্টেমের ডেটাবেজ ভারতে হওয়ায় তথ্য চুরির পাশাপাশি একই ব্যক্তির নামে একাধিক আইএমইআই নম্বর নিবন্ধন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্মার্ট থিংকের স্বত্বাধিকারী মঈন আহমেদ বলেন, ‘১ তারিখে আমরা বিটিআরসি ভবনে যাই। সেসময় আমাদের ভেতর কিছু বহিরাগত লোক ঢুকে। বিটিআরসিতে ভাঙচুর চালায়। ওইদিনই আমাদের মোটামুটি ৪৫ জনের মতো গ্রেপ্তার করা হয়। আমরা ব্যবসায়ীরা আসলে বাসায় ঘুমাতে পারি না। প্রতিদিনই আমাদের ডিবি আতঙ্ক থাকে। এরমধ্যে কয়েকদিনই আমাদের কয়েকজন ব্যবসায়ীর বাসায় গিয়ে পুলিশ হানা দিয়েছে।’
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দোকান বন্ধ থাকায় বিশাল অঙ্কের ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা। অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে কোটি কোটি টাকার মোবাইল ফোন। পাশাপাশি ব্যাংক লোন পরিশোধ করতে না পারায় এ খাতে জড়িত ২০ লাখেরও বেশি মানুষের রুটি রুজি এখন অনিশ্চিত।
মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. আনিসুর রহমান সোহেল বলেন, ‘ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে আইটি সেক্টরে অনেক বড় একটা প্রভাব পড়বে। অনেক ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি আছে স্মার্টফোন ইউজারদের, আমরা ব্যবসায়ীরা যারা আছি আমাদের সঙ্গে তাদের ব্যবসাটা কানেক্টেড। প্রবাসীরা আসলে আক্ষরিক-জ্ঞানশূন্য। তারা কখনোই এরকম ডকুমেন্টস মেইনটেইন করে বাংলাদেশে এসে জমা দিবে তারপর ৩ থেকে ৫ কর্ম-দিবস পরে তারা সেটা অ্যাপ্রুভ। কোনো কারণে যদি অ্যাপ্রুভ না হয় দ্বিতীয়বার ডকুমেন্টসটা স্পষ্ট ছবি তুলে সাবমিট করতে পারবে এটা আমার মনে হয় না। এটাই হলো সমস্যা।’
এদিকে, মোবাইল মার্কেট বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারাও। ফোন কিনতে এসে ফিরতে হচ্ছে খালি হাতে। বন্ধ সার্ভিসিংও। যদিও, এ নিয়ে কোনর মন্তব্য করতে রাজি হননি বিটিআরসির কেউ।





