সিদ্ধান্ত বদলালো বাংলাদেশ ব্যাংক; পোশাক খাতে নগদ সহায়তা ৫ শতাংশ

গার্মেন্টসে কাজ করছেন শ্রমিকরা
গার্মেন্টসে কাজ করছেন শ্রমিকরা | ছবি: এখন টিভি
0

ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে অবশেষে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পোশাক খাতে নগদ সহায়তা দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংক জানায়, রপ্তানি বাড়াতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে একে শুভংকরের ফাঁকি বলছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। আর অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি প্রণোদনা অর্থনীতির জন্য ভালো কোনো ফল বয়ে আনবে না।

তৈরি পোশাকসহ বর্তমানে ৪৩ ধরনের পণ্য রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা দেয় সরকার। এর মধ্যে পোশাক রপ্তানিতে দেড় শতাংশ প্রণোদনা দিয়ে আসছে সরকার। তবে ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনে দাবির মুখে তা তিনগুণ বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

গত রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। তথ্য বলছে, দেশিয় বস্ত্রে বিকল্প নগদ সহায়তার বাইরে ইউরো অঞ্চলে বস্ত্র রপ্তানিতে অতিরিক্ত বিশেষ সহায়তা শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ এবং নিট, ওভেন, সোয়েটারসহ তৈরি পোশাকের সব ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে অতিরিক্ত ৩ শতাংশ বহাল থাকছে।

এছাড়া অন্যান্য খাতে প্রণোদনার হার একই থাকছে। ব্যাংক খাতের এ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, রপ্তানিমুখী এ খাতে স্বস্তি ফেরাতেই নেয়া হয়েছে এমন সিদ্ধান্ত।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘যদি লোকাল বাজার থেকেই সুতা অথবা বস্ত্র সংগ্রহ করেন এবং সেটা রপ্তানি হয়ে থাকে পরবর্তী ধাপ অতিক্রম করে, তার বিপরীতে বিদ্যমান যে ক্যাশ ইনসেন্টিভের হার ১ দশমিক ৫ শতাংশ ছিলো, সেটা বৃদ্ধি করে ৫ শতাংশ এ উন্নীত করা হয়েছে। আশা করি এর ফলে আমাদের একেবারেই স্পিনিং থেকে শুরু করে গার্মেন্টস পর্যন্ত প্রতিটি সেক্টরই উপকৃত হবে।’

তবে তিনগুণ প্রণোদনাতেও সন্তুষ্ট নয় খাত সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, কাগজে কলমে ৫ শতাংশ বলা হলেও এর আড়ালে রয়েছে শুভঙ্করের ফাঁকি।

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘বেশি দামে লোকাল সুতা কেনার কারণেই আসলে এ টাকাটা সরকার আমাদেরকে ইনডাইরেক্টলি ভর্তুকি দেয়। এ ভর্তুকিটা আসলে টেক্সটাইল যারা সুতা উৎপাদন করে তাদেরকে দেয়া হয়। কিন্তু স্পিনিংগুলো এ সার্কুলার আসার সঙ্গে সঙ্গেই ১০ থেকে ১৫ সেন্ট সুতার দাম বাড়িয়ে ফেলেছে। ফলে ছোট এবং মাঝারি গার্মেন্টসগুলো আসলে এ সার্কুলারের কারণে উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত হতে যাচ্ছে।’

ফজলে শামীম এহসান আরও বলেন, ‘ম্যাক্সিমাম ক্যালকুলেশন আগে হতো যে, ৮০ টাকা পর্যন্ত আমি কাপড়ের দাম হিসাব করতে পারতাম। এখন ৮০ টাকা লাগলেও আমাকে ইনসেন্টিভ দেবে ৭০ টাকার ওপরে। ফলে আগে ছিলো ৮০ টাকার ৫ শতাংশ, এখন এগুলো ৭০ টাকার ৫ শতাংশ।’

তবে অর্ধ শতাব্দী ধরে চলতে থাকা রপ্তানির এ খাত কেন নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পারছে না, সেই প্রশ্ন তুলে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এভাবে প্রণোদনা অব্যাহত রাখা অর্থনীতির জন্য সুখকর নয়।

অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরি বলেন, ‘স্বল্প সময়ে হয়তো কিছুটা সুফল দিতে পারে। আমরা যদি একটা সাস্টেইনেবল সুফল পেতে চাই, টেকসই সুফল যদি হয়, তাহলে কিন্তু তৈরি পোশাক খাতটাকে তাদের নিজস্ব উৎপাদনশীলতা, সক্ষমতা—এইটাকে বৃদ্ধি করার কিন্তু কোনো বিকল্প নাই। তা না হলে শুধুমাত্র প্রণোদনা প্যাকেজ বাড়িয়ে আপনি এটা ধরে রাখতে পারবেন না।’

ব্যবসায়ীদের সংকট কাটাতে সাময়িক প্রণোদনা দেয়া যেতে পারে, তবে তা যেনো দীর্ঘদিন অব্যাহত না থাকে সেবিষয়ে নজর দেয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জেআর